Loading live market data...
Loading active stocks...
Connecting...
Heatmap
×

খয়রাশোলের গঙ্গারামচক কয়লাখনিতে এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে দেহাংশ

খয়রাশোল ব্লকের গঙ্গারামচক কয়লাখনিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৬। যদিও গ্রামবাসীদের দাবি, নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৮।

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: একটা বিস্ফোরণ। সেটাই কান্নার রোল তুলে দিয়েছে এলাকায়। বুকে ধরিয়েছে কাঁপনও। এখনও দুর্ঘটনাস্থলে পা রাখলে সেখানকার অবস্থা দেখে শিউরে উঠবে যে কেউ। কেননা চতুর্দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে দেহাংশ। রক্ত-মাংস-অস্থি-মজ্জায় মাখামাখি খাদানের পাথুরে জমি। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থেঁতলে যাওয়া দেহাংশ। হ্যাঁ এটাই বীরভূমের(Birbhum) খয়রাশোল(Khoyrashol) ব্লকের গঙ্গারামচক কয়লাখনিতে(Gangaramchak Coal Mines) ঘটে যাওয়া গতকালের বিস্ফোরণের ঘটনার(Blast Incident) ২৪ ঘন্টা বাদে এদিনের অবস্থা। সেই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৬। যদিও গ্রামবাসীদের দাবি, নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৮। আর তাই দুর্ঘটনাস্থলে প্রিয়জনদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন পরিবারের লোকেরা। মানুষগুলিকে নয়, খুঁজছেন দেহের টুকরোগুলি। কেননা মানুষগুলি যে আর বেঁচে নেই, সেটা তাঁরা বুঝেই গিয়েছেন। এদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার জেলার পুলিশ সুপার রাজনারায়ণ মুখোপাধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন দুর্ঘটনাস্থলই ঘিরে রাখা হয়নি। আর সেখানে বেশ কিছু মানুষ তাঁদের স্বজনদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন। শেষে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সেই দুর্ঘটনাস্থল ঘেরার ব্যবস্থা করেন তিনি।

আরও পড়ুন, পার্ক স্ট্রিট থানার শ্লীলতাহানির ঘটনার পরে কলকাতা পুলিশের নয়া নির্দেশিকা জারি

গতকাল রাতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় যারা মারা গিয়েছেন তাঁদের পরিবারকে এককালীন ৩২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করা হবে। এর পাশাপাশি পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়া হবে। সেই ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। যে খনিতে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটি রাজ্য সরকার লিজ নিয়েছিল। সেই কারণেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে রাজ্য সরকারের তরফেই। যদিও নিখোঁজ মানুষগুলির পরিবারের দাবি, বডিই যেখানে মিলছে না সেখানে ক্ষতিপূরণ কীভাবে মিলবে? চাকরিই বা কীভাবে পাওয়া যাবে? উত্তর আপাতত নেই। যদিও ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে সেটা মোটামুটি পরিষ্কার হয়েছে। জেলা পুলিশের আধিকারিকদের অনুমান, গাড়িতে বিস্ফোরক বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, অসাবধানতাবশত তাতেই বিস্ফোরণ ঘটে। সেই কারণেই এত বড় দুর্ঘটনা। যদিও সরকারি ভাবে পুলিশ জানিয়েছে, সবটাই প্রাথমিক অনুমান। ফরেনসিক রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এনিয়ে কিছুই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এদিনই দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে ফরেনসিক দল(Forensic Team) নমুনা সংগ্রহ করবে। ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া গাড়িও সংরক্ষণ করা হয়েছে নমুনা সংগ্রহের জন্য।

আরও পড়ুন, দিঘায় বাধ্যতামূলক হচ্ছে, রুম ভাড়ার তালিকা হোটেল-লজের সামনে টাঙিয়ে রাখা

তবে প্রশ্ন উঠেছে, দুর্ঘটনার ২৪ ঘন্টার পরেও কেন দুর্ঘটনাস্থল ঘেরা হয়নি তা নিয়ে। সেখানে এদিন সকালে অবাধে যাতায়াত করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। সেই দৃশ্য দেখে কার্যত বিরক্ত হন জেলার পুলিশ সুপার। তিনি নিজেই এর পর উদ্যোগ নিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলেন। ব্যারিকেড করে দেওয়া হয় বিস্ফোরণস্থল। তবে প্রশ্ন উঠছে, এতক্ষণ এলাকা খোলা থাকায় তদন্তের কোনও সমস্যা হবে না তো? জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে যে ব্লাস্টিং হবে, তা আগে থেকেই ঘোষণা করে রেখেছিল খাদান কর্তৃপক্ষ। সেই মতো শনিবার থেকে পে-লোডার দিয়ে মাটি সমান করার কাজ শুরু হয়। পরিকল্পনা মতো খাদানে তিনটে লেয়ার তৈরি করা হয়। খোলামুখ খনির গায়ে মাটি সমান করে ব্লাস্টিংয়ের জন্য জায়গা মতো তিন ফুট অন্তর গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। সোমবার দিন সকালেই বিস্ফোরক বোঝাই গাড়িটি এনে দাঁড় করানো হয় একেবারে ওপরের লেয়ারে। পাশেই ব্লাস্টিং প্লেস। ২৪ জন ব্লাস্টিং সেকশনে কাজ করা শ্রমিকদের ৩টি লেয়ারে ভাগ করে দেওয়া হয়। এরপর বুস্টার ভ্যান থেকে বিস্ফোরক নামানোর কাজ শুরু করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সেফটির জন্য ছিল মাথায় টুপি আর পায়ে বুট জুতো।

আরও পড়ুন, নতুন রেশন কার্ড করাতে গেলে আধার কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক করল রাজ্য

এক-একটা প্লটের জন্য ১০০-র বেশি সেট তৈরি করা হচ্ছিল। সে কাজ শেষ হলে হুডখোলা জিপে করে শ্রমিকরা নিজের প্লটে নিয়ে যাবেন। সেই সময়ে হঠাৎই বিস্ফোরণ ঠিক ওপরের ধাপে। ছিটকে অপড়েন সবাই। বরাতজোরে কেউ বেঁচেছেন, কেউ বা হারিয়ে গিয়েছেন চিরতরে। ঘটনার অভিঘাত কাটিয়ে উঠে এখনও আহতদের অনেকেরই কথা বলার মতো অবস্থাও নেই। অভিযোগ উঠেছে, ব্লাস্টিংয়ের সময়ে কী কী নিয়ে সাবধান হতে হয়, তা সেখানকার কর্মী থেকে আধিকারিক কাউকেই কোনও দিন জানানো হয়নি। সেই না জানানোরই মাশুল গুণতে হচ্ছে এতজন মানুষকে। অভিযোগ উঠেছে এই নিয়ে কাউকে কোনও দিন ট্রেনিং দেওয়া হয়নি। স্রেফ দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে এ ভাবে মাল বাঁধতে হয়। ঘটনার তদন্তে কে দোষী সাব্যস্ত হবেন আর কে ছাড়া পাবেন সেটা সময় বলবে। তবে পুজোর মুখে একসঙ্গে এতজন মানুষের মৃত্যু আর নিখোঁজের ঘটনা এলাকায় মানুষের মুখের রা কেড়ে নিয়েছে। চতুর্দিকে শুধুই কান্নার রোল।

দীপাবলিতে ঘরে টিকটিকির আগমন শুভ নাকি অশুভ! জানলে চমকে যাবেন

ত্বকের যত্নে ভিটামিন ই ক্যাপসুল কীভাবে ব্যবহার করবেন জানুন

রসনাতৃপ্তিতে নয়া পদে সাজিয়ে তুলুন থালা, জমে যাবে শেষপাত

পুজোর আগে সুখবর, সস্তা রান্নার গ্যাস, কত কমল দাম?

‘টেন্টেড’ তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ‘অযোগ্য’-রা

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

0:00