নিজস্ব প্রতিনিধি: আশঙ্কাই সত্যি হল। শেখ হাসিনা সরকারের অবসানের পরে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে মৌলবাদীদের দৌরাত্ম্য। ফলে অস্ট্রেলিয়া, ভারত-সহ একাধিক দেশ নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশের মাটিতে মহিলাদের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল পাঠাতে রাজি নয়। শেষ পর্যন্ত সদস্য দেশগুলির চাপে বাংলাদেশ থেকে মহিলা টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর সরিয়ে নিল বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি। আজ মঙ্গলবার (২০ অগস্ট) আইসিসির বোর্ড সভায় বাংলাদেশে মেয়েদের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও আইসিসি’র তরফে এ বিষয়ে কোনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, বাংলাদেশ থেকে আসর সরানো হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে।
গত ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহে ক্ষমতাচ্যূত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনা। তাঁর পরিবর্তে দেশে ক্ষমতার কুর্সিতে বসেছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতপুষ্ঠ মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। আর তার পরেই দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে অরাজকতা। কার্যত মৌলবাদী ও জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের দৌরাত্ম্য চলছে গোটা দেশে। ফলে মেয়েদের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর বসা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তরফে মেয়েদের বিশ্বকাপ সুষ্ঠভাবে আয়োজনের জন্য দেশের সেনাবাহিনীরও সাহায্য চাওয়া হয়েছিল।
যদিও ভারত-অস্ট্রেলিয়া সহ একাধিক দেশ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের মাটিতে খেলতে অস্বীকার করে। বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগিতা অন্য কোনও দেশে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চর্চা শুরু হয়। সোমবারই প্রকাশ্যে বাংলাদেশ থেকে মেয়েদের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার আইসিসি’র বোর্ডের ভার্চুয়াল বৈঠকে বিশ্বকাপের স্থান পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়েছে। অধিকাংশ বোর্ড সদস্য মতামত দিতে গিয়ে জানিয়ে দেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে বিশ্বকাপের আসর আয়োজন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) তাতে সহমত পোষণ করে। এর পরেই বাংলাদেশ থেকে আরব আমিরশাহিতে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।