নিজস্ব প্রতিনিধি, লখনউ: আইপিএলে দলের শেষ ম্যাচেই ব্যাট হাতে গর্জে উঠে যাবতীয় সমালোচনার জবাব দিলেন ঋষভ পন্থ। মঙ্গলবার (২৭ মে) রাতে লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বোলারদের ক্লাব পর্যায়ে নামিয়ে আনলেন তিনি ও মিচেল মার্শ। আর দুজনেই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের দৌলতেই প্রথমে ব্যাট করে তিন উইকেট হারিয়ে ২২৭ তুলল লখনউ সুপার জায়ান্টস। শীর্ষ দুইয়ে জায়গা করে নিতে হলে বিরাট কোহলিদের চাই ২২৮ রান।
টসে জিতে এদিন প্রথমে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে ব্যাট করতে পাঠান রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক জিতেশ শর্মা। শুরু থেকেই দেখেশুনে খেলতে থাকেন লখনউয়ের দুই ওপেনার মিশেল মার্শ ও ম্যাথু ব্রিৎজকে। লক্ষ্য ছিল প্রথম পাওয়ার প্লে-তে কোনও উইকেট না হারানো। কিন্তু তা সফল হয়নি। তৃতীয় ওভারে ম্যাথুকে (১৪) ফিরিয়ে লখনউকে প্রথম ধাক্কা দেন নুয়ান থুসারা। এর পরে দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন মার্শ ও ঋষভ পন্থ। প্রথম পাওয়ার প্লে-তে ৫৫ রান তোলে লখনউ। এর পরে দুজনেই হাত খুলে নির্দয়ভাবে বেঙ্গালুরুর বোলারদের পেটাতে থাকেন। ৯.৫ ওভারেই ১০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় লখনউ। চলতি আইপিএলে ব্যাট হাতে তেমন পারফরম্যান্স করতে না পারা লখনউ অধিনায়ক ঋষভ পন্থ মাত্র ২৯ বলেই অর্ধশতরানে পৌঁছে যান। খানিকবাদে ব্যক্তিগত অর্ধশতরান তুলে নেন মিচেল মার্শও। খেলা যত গড়িয়েছে ততই চাপে পড়েছে বেঙ্গালুরুর বোলাররা। শেষ পর্যন্ত ১৬তম ওভারে মিচেলকে (৩৭ বলে ৬৭) ফিরিয়ে জুটি ভাঙতে সক্ষম হন ভুবনেশ্বর কুমার। কিন্তু ততক্ষণে শক্ত ভিতের উপরে দাঁড়িয়ে গিয়েছে লখনউ। কেননা দ্বিতীয় উইকেটে যোগ হয়েছে ১৫২ রান।
মিচেল মার্শ ফেরার পরে বেঙ্গালুরুর বোলারদের পিটিয়ে ছাতু করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন ঋষভ। ১৮তম ওভারে ভুবনেশ্বর কুমারের বল সীমানার বাইরে পাঠিয়ে শতরানে পৌঁছে যান। আর চলতি আইপিএলে প্রথম ও একমাত্র শতরান করতে ঋষভ নিয়েছেন মাত্র ৫৪ বল। তার শতরানের ইনিংস সাজানো ছিল ১০টি চার ও ছয়টি ছক্কায়। আর শতরান করার পরেই মাঠে অভিনব কায়দায় উদযাপন করলেন লখনউ অধিনায়ক। কার্যত শীর্ষাসনের ভঙ্গিতেই যেন সব সমালোচনার জবাব দিলেন। বুঝিয়ে দিলেন, সত্যিই মাটিতে তার পা পড়া উচিত নয়। ১৮ ওভারেই ২০০ রানের গণ্ডি টপকে যায় লখনউ। যদিও হাতে উইকেট থাকা সত্বেও শেষ দুই ওভারে প্রত্যাশিত রান তুলতে পারেননি ঋষভরা। ১৯তম ওভারে যশ দয়ালের বলে তোলেন ১৩ রান। শেষ ওভারে প্রথম চার বলে রোমারিও শেফার্ড খরচ করেন ১২ রান। পঞ্চম বলে অবশ্য নিকোলাস পুরানকে (৯ বলে ১৩) সাজঘরে ফেরাতে সফল হন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে লখনউয়ের স্কোর দাঁড়ায় তিন উইকেটে ২২৭। ঋষভ ৬১ বলে ১১৮ রানে অপরাজিত থেকে যান।