নিজস্ব প্রতিনিধি, লাহোর: বেন ডাকেটের ইতিহাস গড়া শতরান ও জো রুটের অনবদ্য ৬৮ রানের সুবাদে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে রানের পাহাড়ে চড়ল ইংলিশরা। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট খুঁইয়ে ৩৫১ রান তুলল জস বাটলার বাহিনী। অস্ট্রেলিয়ার দুর্বল বোলিং লাইনকে নিয়ে ছেলেখেলা করলেন ইংলিশরা।
টসে জিতে এদিন প্রথমে ইংল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠান অজি অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। শুরু থেকেই ঝড় তোলার চেষ্টা করেন ফিল সল্ট। যদিও বেশিক্ষণ তিষ্ঠোতে পারেননি। দ্বিতীয় ওভারে বেন ডোয়ারশুইসের ভিতরে ঢোকা বল মিড উইকেটে পাঠাতে চেয়ে অ্যালেক্স ক্যারির তালুবন্দি হয়ে মাত্র ১০ রানে সাজঘরে ফেরেন। ইংলিশদের দ্বিতীয় ধাক্কাটাও দেন ডোয়ারশুইস। জেইমি স্মিথকে (১৫) বোকা বানান। কাকতালীয়ভাবে স্মিথের ক্যাচও নেন ক্যারি। ৬ ওভারের মধ্যে দুই উইকেট হারিয়ে কানিকটা চাপে পড়ে যায় ইংলিশরা। কিন্তু সেখান থেকে ম্যাচের রং পাল্টে দেন বেন ডাকেট ও জো রুট। দুজনে জুটি বেঁধে অজি বোলারদের অবলীলাক্রমে শাসন করতে থাকেন। আইসিসির কোনও প্রতিযোগিতায় এদিনই অভিষেক ঘটেছিল ডাকেটের। আর অভিষেক ম্যাচেই ৫০ বলে ৫০ রান করে নজির গড়েন। খানিকবাদে ৫৬ বলে নিজের ব্যক্তিগত অর্ধশতরানে পৌঁছে যান জো রুট। একদিনের ক্রিকেটে নিজের ৪১ তম অর্ধশতরান পূর্ণ করেন ইংল্যান্ডের অন্যতম ব্যাটিং স্তম্ভ।
দুই ব্যাটারের অপ্রতিরোধ্য ব্যাটিং অজি আধিনায়কের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে। শেষ পর্যন্ত জো রুটকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে ১৫৮ রানের জুটি ভাঙেন অ্যাডাম জাম্পা। যদিও রুটকে আউট দেওয়ার সিদ্ধান্তটা সহজ ছিল না। বলটা মিডল স্টাম্পে পড়ে লেগ স্টাম্পে যাচ্ছিল। আম্পায়ার আহসান রাজা তাকে আউটের সিদ্ধান্ত দেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি রুট। আউট হওয়ার আগে ৭৮ বলে করেন ৬৮ রান। তবে রুট ফিরলেও নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন ডাকেট। স্পেনসার জনসনকে টানা দুটি চার মেরে পৌঁছে যান শতরানে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটা তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি, সব মিলিয়ে তৃতীয়।
জো রুট বিদায় নেওয়ার পরে হ্যারি ব্রুকও (৩) দ্রুত ফেরেন। ইংল্যান্ড আধিনায়ক জস বাটলার এর পরে ডাকেটের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। তবে তাঁকে ২৩ রান করেই ফিরতে হয়। লিয়াম লিভিংস্টোন করেন ১৪ রান। ৪৮তম ওভারে বল করতে এসে ডাকেটকে (১৪৩ বলে ১৬৫) ফেরান মারনুশ লাবুশানে। ততক্ষণে অবশ্য আইসিসির কোনও প্রতিযোগিতায় দেড়শো রানকারী ব্যাটার হিসাবে নিজের নাম খোদাই করে ফেলেছেন ডাকেট। শেষের দিকে চালিয়ে খেলে জোফ্রা আর্চার (১০ বলে ২১) দলকে সাড়ে তিনশো রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন।