নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘বাঁচা-মরার’ ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ১৪ রান হারিয়ে প্লেঅফের আশা জিইয়ে রাখল কলকাতা নাইট রাইডার্স। মঙ্গলবার প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে ২০৪ রান তুলেছিলেন আজিঙ্ক রাহানেরা। জবাবে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯০ রানেই থমকে যায় দিল্লি। ফ্যাপ ডু প্লেসিস ও অক্ষর পটেল ছাড়া ব্যাট হাতে কেউ লড়াই করতে পারলেন না। এ নিয়ে ঘরের মাঠে চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে হারের মুখ দেখতে হল অক্ষরদের।
অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে এদিন টসে জিতে প্রথম বল করার সিদ্ধান্ত নেন দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক অক্ষর পটেল। ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলতে শুরু করে দেন কলকাতার দুই ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও সুনীল নারাইন। দ্বিতীয় ওভারেই দুষ্যন্ত চামিরাকে নির্দয়ভাবে মেরে ২৫ রান তোলেন দুজনে। যদিও গুরবাজ বেশিদূর এগোতে পারেননি। তৃতীয় ওভারে মিচেল স্টার্কের বলে সাজঘরে ফিরে যান। ১২ বলে ২৬ রান করেন আফগান বাটার। এর পর তাণ্ডব শুরু করেন সুনীল নারাইন ও অজিঙ্ক রাহানে। প্রথম পাওয়ার প্লে-তে ৭৬ রান তোলে কলকাতা। সপ্তম ওভারে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে নারাইনের (২৭) তাণ্ডব থামান বিপরাজ নিগম। পরের ওভারে অকষর পটেলের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন নাইট আধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। তিনি করেন ১৪ বলে ২৬।
পাঁচ নম্বরে নামা পৌনে ২৪ কোটির বেঙ্কটেশ আইয়ার ফের ব্যর্থ হন। দলের কাছে বোঝা হয়ে ওঠা ক্রিকেটার করেন মাত্র ৭ রান পর পর তিন উইকেট খুঁইয়ে বিপাকে পড়ে কলকাতা। পঞ্চম উইকেটে জুটি বেঁধে সেই ধাক্কা খানিকটা সামাল দেন অঙ্গকৃশ রঘুবংশী ও রিঙ্কু সিংহ। দুজনে ৬১ রান যোগ করেন। ১৭তম ওভারে দুষন্ত চামিরার বলে সাজঘরে ফেরেন রঘুবংশী। কলকাতার তরুণ ক্রিকেটার আউট হওয়ার আগে করে যান ৩২ বলে ৪৪ রান। পরের ওভারে রিঙ্কু সিংহকে ফেরান বিপরাজ নিগম। রিঙ্কু করেন ২৫ বলে ৩৬। শেষের দিকে খানিকটা ঝোড়ো ইনিংস খেলার চেষ্টা করেন চলতি আইপিএলে চূড়ান্ত অফ ফর্মে থাকা আন্দ্রে রাসেল। সপ্তম উইকেটে রোভম্যান পাওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে দলকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন। শেষ ওভারে বল করতে এসে কলকাতা শিবিরে জোর আঘাত হানেন মিচেল স্টার্ক। তৃতীয় বলে ফেরান পাওয়েলকে (৫ বলে ৫)। পরের বলে ফেরান অনুকুল রায়কে (০)। পঞ্চম বলে রান নিতে গিয়ে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন রাসেল (৯ বলে ১৭)। শেষ ওভারে তিন উইকেট হারানোয় প্রত্যাশিত রানে পৌঁছতে পারল না কলকাতা।
ঘরের মাঠে জয়ের জন্য ২০৫ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে দিল্লি। দ্বিতীয় বলে ফিরে যান অভিষেক পোড়েল (৪)। দ্বিতীয় উইকেটে ফ্যাপ ডু প্লেসিস ও করুণ নায়ার ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুজনে ৩৯ রান যোগ করার পরে করুণকে (১৫) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন বৈভব অরোরা। যার উপরে ভরসা ছিল সেই কেএল রাহুল ব্যাট হাতে লড়াই করতে পারেননি। তিনি ফেরেন সাত রানে। চতুর্থ উইকেটে জুটি বেঁধে কলকাতার বোলারদের শাসন করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন ডু প্লেসিস ও দিল্লির অধিনায়ক আক্ষর পটেল। দুজনেই মারমুখী মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন। ফলে উল্টে চাপে পড়ে যায় কলকাতা।
১৪তম ওভারে বল করতে এসে কার্যত ভেল্কি দেখান সুনীল নারাইন। দিল্লির অধিনায়ককে (৪৩) ফিরিয়ে ৭৬ রানের জুটি ভেঙে ম্যাচে কলকাতাকে ফেরান। অক্ষর ফিরতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে দিল্লির ব্যাটিং অর্ডার। পর পর ফিরে যান ত্রিস্তান স্টাবস (১), ডু প্লেসিস (৬২)। দুজনকেই সাজঘরে ফেরান সুনীল নারাইন। ১৮তম ওভারে দিল্লিকে জোড়া ধাক্কা দেন বরুন চক্রবর্তী। ফিরিয়ে দেন আশুতোষ শর্মা (৭) ও মিচেল স্টার্ককে (০)। শেষের দিকে খানিকটা লরাই চালান বিপরাজ নিগম। তিনি ১৯ বলে ৩৮ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ১৯০ রানেই থমকে যায় দিল্লি। সুনীল নারাইন ২৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছেন।