নিজস্ব প্রতিনিধি : হিন্দু ধর্মের সর্বোচ্চ আসনে থাকা ত্রিদেব হলেন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর। তারাই হলেন জগতের ত্রিমূর্তি।ব্রহ্মা হলেন সৃষ্টির কারক, বিষ্ণু হলেন প্রতিপালক ও মহেশ্বর হলেন ধ্বংসের দেবতা।জগতে যেমন সৃষ্টির প্রয়োজন আছে তেমনই পালনের ও প্রয়োজন।আবার ধ্বংস না করলে নতুন কিছু সৃষ্টি হয় না।তাই ধ্বংসের দেবতা হিসেবে মহাদেবকে দেখানো হয়েছে।
ত্রিদেবের মধ্যে অন্যতম হলেন ব্রহ্মা।পুরাণ অনুসারে ব্রহ্মা হলেন স্বয়ম্ভু। অর্থাৎ তাঁর কোনও পিতা ও মাতা নেই। তিনি নিজেই নিজের জন্ম দিয়েছেন।এই আশ্চর্য জন্মের পর ব্রহ্মা ধ্যানে বসেন। সেই ধ্যানে তিনি তাঁর সকল ভালো গুণকে একত্র করতে থাকেন। আর ব্রহ্মার সকল ভালো গুণ একত্রিত হয়ে তা ধীরে ধীরে এক নারীর আকার নিতে থাকে।এই ভাবেই ব্রহ্মার মুখ গহ্বর থেকে সৃষ্টি হয় দেবী সরস্বতীর।ব্রহ্মার মুখ বা বাক্ থেকে সৃষ্টি বলে সরস্বতী কে বাগদেবী বলা হয়। ব্রহ্মার সৃষ্টি বলে সরস্বতী ব্রহ্মার কন্যা আবার অন্য মতে ব্রহ্মার স্ত্রী হল সরস্বতী।
এতটাই সরস্বতী দেবীর সৌন্দর্য যে ব্রহ্মা এক মুহুর্ত ও না দেখে থাকতে পারেন না।তাই চতুর্দিকে যাতে সরস্বতী কে দেখতে পারেন তার জন্য তিনি নিজের চারটি মুখ সৃষ্টি করলেন। একদিন এক অনুষ্ঠানে সময় মতো দেবী সরস্বতী ব্রহ্মার কাছে উপস্থিত হতে পারেননি, তাই ব্রহ্মা গায়ত্রী নামে নিজের আরও এক স্ত্রীর সৃষ্টি করেন। সেই কথা জানতে পেরে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন সরস্বতী। তিনি ব্রহ্মাকে অভিশাপ দেন যে ত্রিমূর্তির অন্যতম হলেও মর্ত্যলোকে তাঁর পুজো করা হবে না।
আরও পড়ুন : কীভাবে জন্ম হয়েছিল বাগদেবীর? গল্পটা জানেন তো ?
অন্য কাহিনী অনুযায়ী, দেবী সরস্বতী শতরূপা, গায়ত্রী, সাবিত্রী বা ব্রহ্মাণী নামে পরিচিতা। সেই নারীর প্রতি কামাসক্ত হয়ে পড়েন ব্রহ্মা। দেবী সরস্বতী ব্রহ্মার থেকে পালাতে শুরু করল। তখন দেবী ব্রহ্মার কামাবেগ থেকে নিজেকে বাঁচাতে নানা পশুর ছদ্মবেশ ধরে পালাতে থাকেন।ব্রহ্মাও একে একে সেইসব পশুর পুরুষ রূপ ধারণ করে শতরূপার পিছু নেন। বলা হয়, এইভাবেই তৈরি হয় জীবকুল।
তখন শতরূপা ওরফে দেবী সরস্বতী একটি গুহার ভিতর আশ্রয় নেন। ব্রহ্মা সেই গুহাতেই মিলিত হন শতরূপার সঙ্গে।শতরূপা ছিলেন ব্রহ্মার কন্যা।কিন্তু তাঁর সঙ্গেই মিলিত হন ব্রহ্মা। এই অবৈধ যৌনাচারের অপরাধে শিব ব্রহ্মাকে অভিশাপ দেন এবং তার পঞ্চম মাথাটিও কেটে দেন।শিব ব্রহ্মাকে অভিশাপ দেন যে ধরাধামে কেউ তার পুজো করবে না। সেই থেকে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা হলেও মর্ত্যে কেউ তার পুজো করে না।
আরও পড়ুন : রাজহাঁসকেই কেন বাহন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন বাগদেবী..