নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরেই বাংলাদেশ জুড়ে হিন্দুদের উপরে শুরু হয়েছে বেলাগাম সন্ত্রাস। হিন্দুদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি দোকান-বাড়িঘর ও মন্দিরে চলছে ব্যাপক ভাঙচুর। দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর সময়েও বিভিন্ন মণ্ডপে চলেছে হামলা। তা সত্বেও মৌলবাদীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আজ রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪টি মণ্ডপে বাগদেবীর আরাধনায় ব্রতী হচ্ছে হিন্দু পড়ুয়ারা। পাশাপাশি ঢাকেশ্বরী মন্দির, লোকনাথ বাবার আশ্রম এবং রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনেও সাড়ম্বরে আয়োজিত হতে চলেছে সরস্বতী পুজো।
হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়। যে কারণে অনেকের কাছে তিথিটি শ্রী পঞ্চমী বা বসন্ত পঞ্চমী নামেও পরিচিত। এ বছর অবশ্য বাগদেবীর পুজো পড়েছে দু’দিন। অর্থাৎ রবিবার ও সোমবার পুজো হবে। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে, পঞ্চমী তিথি শুরু হবে রবিবার সকাল ৯ টা ১৬ মিনিটে। আর শেষ হবে সোমবার সকাল ৬ টা ৫৩ মিনিটে। মহানগর সর্বজনীন পুজো কমিটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনের কেন্দ্রীয় পুজোমণ্ডপে প্রতিবারের মতো এবারেও সরস্বতী পুজোর আয়োজন করেছে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পুজো অনুষ্ঠিত হবে সোমবার। আর রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে রবিবার ও সোমবার-দুই দিনই পুজো অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন হলে সাড়ম্বরে সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা হয়েছে।
জগন্নাথ হলের প্রোক্টর দেবাশীষ পাল জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় উপাসনালয়, চারুকলা অনুষদ, বিভিন্ন বিভাগ এবং হলের ৭৪টি মণ্ডপে সরস্বতী পুজো অনুষ্ঠিত হবে। জগন্নাথ হলেও পুজো অনুষ্ঠিত হবে সোমবার। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যেই দৃষ্টিনন্দন মণ্ডপ তৈরি করেছেন।