নিজস্ব প্রতিনিধি : আজ সরস্বতী পুজো। বিদ্যার দেবীর আরাধনায় মেতে উঠেছেন ভক্তরা। বর্তমানে দেবী সরস্বতীকে বিদ্যার দেবী বলা হলেও প্রাচীনকালে জলদেবী হিসেবে পুজো করা হত। একবার বিদ্যার এই দেবী উচিত শিক্ষা দিয়েছিলেন মহাশক্তিধর কুম্ভকর্ণকে। বাংলায় একটা কথায় আছে ‘কুম্ভকর্ণের মতো ঘুম’..। কিন্তু কেন এই ঘটনা ঘটেছিল জানেন কি? মানুষের কাছে হাসির পাত্র হয়ে ওঠে রামায়ণের এই চরিত্রটি। তবে তিনি কর্ম ও কঠোর তপস্যার কারণে বিখ্যাতও বটে।
জানেন কী দেবী সরস্বতীর কারণেই মহাশক্তিধর রাবণের ভাই কুম্ভকর্ণ ৬ মাস ঘুমোনোর বর পেয়েছিল। এটা কুম্ভকর্ণের জন্য শাস্তিও বটে। সরস্বতী পুজোর দিন জানুন দেবী সরস্বতী কীভাবে কুম্ভকর্ণকে বিভ্রান্ত করেছিলেন।
কুম্ভকর্ণ ছিলেন রাবণের ছোট ভাই এবং ঋষি বিশ্রব ও রাক্ষস কৈকসীর পুত্র। শক্তিশালী কুম্ভকর্ণের পর্বতপ্রমাণ খিদে সকলের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।এদিকে খাদ্যবস্তুর পাশাপাশি মানুষ, পশু সমস্ত কিছু খেতে শুরু করে কুম্ভকর্ণ। অবশেষে খাদ্যভাব দেখা দেয়। এই সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য সকলে দেবরাজ ইন্দ্রের শরণাপন্ন হন।তার পর ইন্দ্রের সঙ্গে কুম্ভকর্ণের যুদ্ধ হয়। তখন কুম্ভকর্ণ ঠিক করে যে ইন্দ্রকে স্বর্গ থেকে উৎখাত করে ছাড়বেন। কিন্তু কি করে করবেন সেই ফন্দি আঁটতে থাকেন ধরিবাজ কুম্ভকর্ণ।
অবশেষে ঠিক করলেন, ব্রহ্মাকে খুশি করে বর লাভ করবেন তিনি।তাই কঠিন তপস্যায় বসলেন কুম্ভকর্ণ। বাধ্য হয়ে দেখা দিলেন ব্রহ্মা। বরস্বরুপ কি চাইবেন তা আগে থেকে ঠিক করে ফেলেছিলেন কুম্ভকর্ণ। যেই ব্রহ্মা বর চাইতে বললেন তখন কুম্ভকর্ণ মনে মনে ভেবে নিলেন ‘ইন্দ্রাসন’ বর চাইবেন। ইন্দ্রের আসন যাতে ছিনিয়ে নিতে পারেন। এদিকে কৌশলে ওই সময় দেবী সরস্বতী তাঁর জিহ্বায় বিরাজ করেন এবং কুম্ভকর্ণের বাক (কথা বলার শক্তি)নিয়ন্ত্রণ করেন। সেইসময় নানাভাবে বিভ্রান্ত হতে থাকেন কুম্ভকর্ণ।অবশেষে ‘ইন্দ্রাসনে’র জায়গায় ব্রহ্মার কাছে ‘নিদ্রাসন’ বর চেয়ে বসলেন তিনি।
আরও পড়ুন : সরস্বতী পুজোর আগে কুল খেতে নেই কেন? সত্যিই কি রুষ্ট হন বাগদেবী?
বিপদ বুঝে রাবণ ছুটে আসেন।অবশেষে বড় ভাই রাবণের অনুরোধে ব্রহ্মা তাঁকে ৬ মাস ঘুমানোর বর দেন। তার পর ১ দিনের জন্য জাগতেন কুম্ভকর্ণ। এরপর আবার ঘুমিয়ে পড়তেন তিনি। বলা হয় কুম্ভকর্ণের বর চাওয়ার সময় সরস্বতী তাঁর জিভ টেনে ধরেন। কুম্ভকর্ণ তখন ইন্দ্রাসন (ইন্দ্রের আসন) উচ্চারণের বদলে নিদ্রাসন উচ্চারণ করে বসেন।
আরও পড়ুন : পিতা ও স্বামী একজনই, সরস্বতীর প্রেম-জীবন নিয়ে বিতর্ক! কী বলছে পুরাণ?