কৈলাস পর্বত তুলতে গিয়ে কী দশা হয়েছিল রাবণের ? জেনে নিন অজানা কাহিনি

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : হিন্দু পুরাণে লঙ্কাধিপতি রাবণ হলেন এক মহা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র — যিনি ছিলেন একদিকে ভয়ঙ্কর রাক্ষসকুলপতি, অন্যদিকে দেবাদিদেব মহাদেবের পরম ভক্ত। তাঁর জীবনে অহংকার ও ভক্তির মিশ্রণই তাঁকে অনন্য চরিত্রে পরিণত করেছিল। তবে জানেন কী, রাবণের নাম প্রথমে দশানন ছিল? তাহলে তাঁর এই রাবণ নাম কী ভাবে হয়েছিল ? কেই বা দিয়েছিলেন এই নাম ?

জানা যায়, একদা লঙ্কাধিপতি দশানন তাঁর পুষ্পক বিমানে চড়ে আকাশপথে ভ্রমণ করছিলেন। এমনসময় তাঁর যাত্রাপথে হঠাৎ কৈলাস পর্বত পড়ে। দেবাদিদেবের আজ্ঞায় কৈলাস পর্বতের উপর দিয়ে কারো যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু দশানন, নিজের অসীম শক্তি ও প্রভাবের অহংকারবশত সেই আজ্ঞাকে অমান্য করলেন কারণ, কৈলাস পর্বত তাঁর যাত্রাপথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছিল।

অহংকারে মত্ত দশানন তখন সিদ্ধান্ত নেন, এই বিরাট পর্বতকে উপড়ে ফেলে তিনি নিজের শক্তির প্রদর্শন করবেন। তিনি কৈলাস পর্বতকে তুলতে শুরু করেন। তাঁর অসীম বলপ্রয়োগে সমগ্র বিশ্ব কেঁপে ওঠে, দেবতারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু মহাদেব শিব শান্তভাবে কৈলাস শিখরে বসে এই দৃশ্য দেখছিলেন। দশাননের অহংকার চূর্ণ করতে এবং তাঁকে শিক্ষা দিতে, শিব তখন নিজের ডান পায়ের বুড়ো আঙুল হালকাভাবে পর্বতের উপর রাখেন। মুহূর্তেই কৈলাস পর্বত তার আসল অবস্থায় আবার অটল হয়ে বসে যায়। ফলে দশাননের হাত পর্বতের নিচে চাপা পড়ে যায়। তিনি ভয়ঙ্কর যন্ত্রণায় প্রবল চিৎকার করে উঠলেন। তাঁর সেই আর্তনাদ এতই তীব্র ছিল যে তিন লোক—স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল—কেঁপে ওঠে। এই অবস্থায় তিনি হাজার বছর ধরে শিবের স্তবগান ও তপস্যা করে মহাদেবকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করলেন।

শিব তাঁর কঠোর ভক্তি ও অনুতাপে সন্তুষ্ট হয়ে কৈলাস থেকে নেমে এলেন। তিনি দশাননের আর্তনাদকে পরম ভক্তির রূপে গ্রহণ করলেন এবং তাঁকে মুক্তি দিলেন। শিব তখন তাঁকে আশীর্বাদ করে একটি অতুলনীয় অস্ত্র চন্দ্রহাস খড়্গ দান করেন। পাশাপাশি শিব বলেন— “দশানন, তুমি যে আর্তনাদে তিন লোককে কাঁপিয়ে তুলেছো, সেই শব্দই তোমার নতুন পরিচয় হয়ে থাকবে। আজ থেকে জগৎ তোমায় এক নতুন নাম চিনবে। তোমার নাম হল রাবণ—অর্থাৎ যিনি ভয়ঙ্কর রাব (আর্তনাদ) করেছেন।” এইভাবেই দশানন তাঁর আরাধ্য পরমেশ্বরের থেকে পেলেন তাঁর নতুন পরিচয়—রাবণ।

এই কাহিনী আমাদের শেখায় যে অহংকার সর্বদা পতনের কারণ, আর ভক্তি ও আত্মসমর্পণই প্রকৃত শক্তির উৎস। রাবণ প্রথমে অহংকারে মত্ত হয়ে কৈলাস পর্বত তুলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেই অহংকার ভেঙে গিয়ে তিনি মহাদেবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভক্তে পরিণত হন। তাঁর নাম, তাঁর অস্ত্র, এমনকি তাঁর পরিচয়ের অন্যতম স্তম্ভও হল শিবের কৃপা। সুতরাং রাবণ কেবল এক অসুররাজ নন, তিনি এক অনন্য ব্যক্তিত্ব—যাঁর জীবনের গল্প অহংকারের পরাজয় এবং ভক্তির জয়কে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।

কেন কেতকীকে অভিশাপ দিয়েছিলেন দেবাদিদেব মহেশ্বর?

কী ভাবে সৃষ্টি হয়েছিল মহাদেবের প্রধান অস্ত্র ত্রিশূলের?  

প্রত্যেক দেব দেবীর রয়েছে পৃথক দিক, জেনে নিন আপনিও

শিবলিঙ্গে নিবেদিত প্রসাদ নিয়মিত খাচ্ছেন, কী হতে পারে জানেন?

প্রলয়ের বার্তা শুনে পিনাক নিক্ষেপ করেছিলেন দেবাদিদেব, জেনে নিন মারণাস্ত্রের পৌরাণিক কাহিনি 

জানেন কী এই মন্দিরের গর্ভগৃহে একই সঙ্গে বিরাজমান মা কালী ও শিব

ব্রাহ্মণ বেশে পার্বতীর কাছে এসেছিলেন স্বয়ং মহাদেব : জানুন হর-পার্বতীর বিবাহের অভূতপূর্ব কাহিনী 

মহা শিবরাত্রিতেই মিলন হয়েছিল হর-পার্বতীর, জানুন অজানা কাহিনী

লড়াই করেও গুজরাতের কাছে হেরে গেল কেকেআর

‘দিল্লি থেকে এল গাই, সাথে এল মোটা ভাই’, শাহ-এজেন্সিকে কটাক্ষ মমতার

‘‌আমি আইনি পদক্ষেপ করব’‌, এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সুর সপ্তমে মমতার

হেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

[hls_player autoplay="1" fullscreen="1" unmute="0"]