পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : হিন্দু পৌরাণিক কাহিনীতে হর-পার্বতীর প্রেমের পরেই স্থান পায় রাধা-কৃষ্ণের প্রেম। তাঁদের প্রেম-কাহিনী চিরন্তন সত্যের প্রতীক। তাছাড়া তাঁদের সম্পর্ক হিন্দু পুরাণ এবং ভক্তি আন্দোলনে এক গভীর আধ্যাত্মিক ও প্রতীকী সম্পর্ক হিসেবে উপস্থাপিত। তাঁদের সম্পর্ক একটি গাছ এবং শিকড়ের মতো, যেখানে গাছটি কৃষ্ণ হলে মূলটি রাধা। শ্রীরাধা হলেন শ্রীকৃষ্ণের অভ্যন্তরীণ শক্তি, হ্লাদিনী শক্তি। জানা যায়. শ্রীকৃষ্ণের জন্মের পনেরো দিন পরে শ্রীমতী রাধারানী আবির্ভুতা হয়েছিলেন। তিনি এসেছিলেন শুধুমাত্র কৃষ্ণের জন্য।
তবে জনশ্রুতি আছে যে, গতজন্মে আয়ান লক্ষ্মীদেবীকে স্ত্রী হিসেবে পেতে ভীষণ তপস্যা শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাঁকে এই বর দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন নারায়ণ। তাতে নিরস্ত না হয়ে নিজের চারপাশে আগুন জ্বেলে আরও কঠিন সাধনা করেন আয়ান। তখন বাধ্য হয়ে নারায়ণ তাঁকে বলেন যে পরের জন্মে তিনি রাধা-রূপী লক্ষ্মীকে স্ত্রী হিসেবে পাবেন, কিন্তু সেই জন্মে আয়ান নপুংসক হবেন বলেও জানান তিনি। রাধা আয়ানকে বিয়ে করলেও তাঁদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর কোনও সম্পর্ক ছিল না।
লোকশ্রুতি মতে, আয়ানের আসল নাম ছিল অভিমন্যু। তিনি বাস করতেন গোকুলের কাছে জারত নামে একটি গ্রামে । পেশায় তিনি ছিলেন দুধের ব্যবসায়ী। তাঁর বাবার নাম গোলা, মা জটিলা এবং বোন কুটিলা। সম্পর্কে কৃষ্ণের পালিকা মা যশোদার তুতো ভাই ছিলেন আয়ান। তাঁর সঙ্গে রাধার বিয়ের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন কৃষ্ণের পালক পিতা নন্দ। কালী-ভক্ত আয়ান পুজো-অর্চনা নিয়েই থাকতেন। অন্য কোনও বিষয়ে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল না। বেশিরভাগ লোককথা অনুযায়ী তিনি নপুংসক হয়েই জন্মেছিলেন। তাই, আয়ান থাকা সত্ত্বেও পূর্ব নির্ধারিত হিসেবেই রাধা কৃষ্ণের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ।
পৌরাণিক কাহিনী সূত্রে জানা যায়, আয়ানের সাথে বিবাহের পূর্বেই শ্রীকৃষ্ণের সাথে বিয়ে হয়েছিল শ্রীমতী রাধার। কথিত আছে, একবার শিশুকালে রাধা ও কৃষ্ণ পায়ে হেঁটে বৃন্দাবন যাচ্ছিলেন। সেই সময় ক্লান্ত হয়ে একটি বট গাছের নীচে তাঁরা বিশ্রাম নিতে বসেন এবং খেলার ছলে তাঁরা বিয়ে করতে শুরু করেন। সেই সময় তাঁদের বিয়ের আচার সম্পূর্ণ করেছিলেন খোদ ব্রহ্মা ও মহেশ্বর আর, বিয়ের সাক্ষী ছিলেন সকল দেবতাগণ। তাই কোনো কোনো বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষ্ণের সঙ্গে আগেই বিয়ে হয়ে যাওয়ায় আয়ানের সঙ্গে রাধার বিয়ে বৈধ ছিলনা।