নিজস্ব প্রতিনিধি : জগদ্ধাত্রী শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘জগৎ+ধাত্রী’,অর্থাৎ‘ত্রিভুবনের ধাত্রী’। যিনি ত্রিভুবনকে ধারন করেন তিনিই জগদ্ধাত্রী। আবার তিনিই হলেন আদ্যাশক্তি মহামায়া। বিশ্বের পালিকা হলেন দেবী জগদ্ধাত্রী। এই পুজোর সূচনা হয়েছিল নদীয়ার কৃষ্ননগরে। জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় বিশেষ জাঁকজমক দেখা যায় নদিয়া, চন্দননগর ও চুঁচুড়া দুই শহরের সীমানায় কুণ্ডুঘাটে। এই কুন্ডুঘাটে বহু বছর ধরে হিন্দু ও মুসলিম পরিবার একত্রে জগদ্ধাত্রী পুজো করে আসছে। প্রায় ৪৭ বছর ধরে মিলেমিশে পুজো করে থাকে এরা।এখানকার পুজোর আশ্চর্যের বিষয় হল ২০ জন সদস্যের মধ্যে ১২ জনই মুসলিম। ‘ধর্মের থেকে মানুষ বড়’ আদর্শ উদাহরণ দেখতে হলে একবার দেখে আসুন কুন্ডুঘাটের জগদ্ধাত্রী পুজো।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতির এক আদর্শ উদাহরণ হল কুণ্ডুঘাট। অনেক বছর ধরেই সেখানে হিন্দু ও মুসলিম পরিবারের বসবাস। আজ থেকে প্রায় ৪৭ বছর আগে এই পাড়ার হিন্দু বাড়ির সদস্যরা জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু করার কথা ভেবেছিলেন। ব্যস তাতেই সুখে-দু:খে বন্ধুর মত হাত বাড়িয়ে দিলেন এলাকার মুসলিমরাও।হিন্দু ও মুসলিম পরিবারের লোকেরা মিলে পুজোর খরচ তোলার জন্য চাঁদা দিতে শুরু করলেন। একই সঙ্গে বাড়ি ঘুরে পুজোর জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন।পুজোর কাজেও মুসলিমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
ভাসানের সময় বড় প্রতিমা ট্রাকে তোলার কাজেও কাঁধে কাঁধ মেলান সবাই। অতীতের সেই নিয়ম-রেওয়াজ আজও চলে আসছে। এই নিয়ে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এই বছর পুজো কমিটির ২০ জন সদস্যের মধ্যে ১২ জন মুসলিম। মাসিক কিস্তিতে পুজোয় অনুদান দেন পুজো কমিটির হিন্দু-মুসলিম সকল সদস্য। এবার পুজো কমিটির সম্পাদক অমর গৌতম দত্ত। ও কোষাধ্যক্ষ্য হলেন শেখ বাবু।
আরও পড়ুন : ছেলেরা শাড়ি পড়ে মা জগদ্ধাত্রীকে বরণ করে নেন, জানেন কী কেন এই অদ্ভূত নিয়ম ?
সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ্য দু’জনের এক দাবি, ‘বাবা-কাকাদের দেখানো পথ অনুসরণ করেই আমরা সম্প্রীতির জগদ্ধাত্রী পুজো করে আসছি। প্রতিমার চক্ষুদানে হাজির থাকেন শেখ বাবুরা। এই নিয়ে শেখ বাবু জানান, ‘আমাদের সব কিছুই এক সঙ্গে হয়। সারা বছর আড্ডা দেওয়া, খাওয়া দাওয়া, পুজোর কাজ।’
অন্যদিকে পুজোর সম্পাদক অমর গৌতম দত্ত বলেন, ‘ওঁদের কেউ মারা গেলে আমরা যাই। আবার ওঁরাও আমাদের কেউ মারা গেলে আমাদের সঙ্গে শ্মশানে যান।’