নিজস্ব প্রতিনিধি : রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে শোরগোল,ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে। নার্সদের দেখে দাঁত খিচিয়ে কাঁচি নিয়ে তেড়ে যান এক রোগী। তারপর ফিমেল মেডিসিন ওয়ার্ডেও ঢুকে পড়েন। নার্সিং স্টাফদের ঘরের ভিতর দিয়ে গিয়ে সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে যান। সেখান থেকে ঝাঁপ দেন নিচে। অবশেষে ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে এই রোগীর।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যায় পুলিশ। ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। তবে ওই রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে আলাদা করে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাতে পেট ব্যথা, রক্ত বমির উপসর্গ নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হন পেশায় গাড়ি চালক প্রকাশ বাইন। তিনি আদতে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা হলেও গত সাত বছর ধরে চন্দননগরের মহাডাঙা কলোনিতে থাকতেন।
হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানিয়েছে, রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ হঠাৎই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন প্রকাশ। নার্সদের টেবিল থেকে একটি কাঁচি নিয়ে অন্য রোগী এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলা করতে উদ্যত হন। মহিলাদের মেডিসিন ওয়ার্ডেও ঢুকে পড়েন ঐ রোগি। এরপর নার্সিং স্টাফদের ঘরের ভিতর দিয়ে গিয়ে সিঁড়ি বেয়ে সোজা ছাদে উঠে যান তিনি। কেউ কোনকিছু বোঝার আগেই ঝাঁপ দেন হাসপাতালের ছাদ থেকে।
তাঁকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে চিকিৎসা শুরু করেন চন্দননগর হাসপাতালের চিকিৎসকরা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানোর পর রাত ৩টে নাগাদ মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। রাতেই খবর দেওয়া হয় পরিবারকে। এই দিন সকালে প্রকাশের পরিবার হাসপাতালে আসে। তবে তাঁরা হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তুলেছে। কেন নিরাপত্তা দেওয়া হয় নি রোগীকে এই নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বচসা হয় হাসপাতাল কতৃপক্ষের।
এই নিয়ে প্রকাশের স্ত্রী মিঠু বাইন বলেন, ‘কেন কাঁচি হাতে নিয়ে এই ভাবে ভয় দেখাল জানি না। আগে ও কোনওদিন এমন করেনি।’ এদিকে নিহতের শ্যালক কবীর চৌধুরী জানান, তাঁর জামাইবাবু মদে আসক্ত ছিলেন।
একইসঙ্গে হাসপাতালের সুপার জানান, ‘ওই ব্যক্তি ক্রনিক অ্যালকোহলিক ছিলেন। এরা মদ না পেলে এই রকম আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ওঁকে বাঁচানোর সমস্ত চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।’ এই খবর পেয়ে সোমবারই হাসপাতালে পরিদর্শন করেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মৃগাঙ্ক মৌলি কর। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও অনুসন্ধান শুরু করেন তিনি।