পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : আমাদের রাজ্যে বলতে গেলে কৃষ্ণনগর ও চন্দননগর ছাড়া অন্যান্য জায়গায় জগদ্ধাত্রী পুজোর সংখ্যা যথেষ্টই কম। এমনকী এই শহরতলিতে যেখানে চারিদিকে এত অসংখ্য অসংখ্য মন্দির রয়েছে, তাদের মধ্যে জগদ্ধাত্রী মায়ের মন্দির প্রায় দেখতে পাওয়া যায় না বললেই চলে। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় কালী ও শনি মন্দির। তবে শিবমন্দিরের সংখ্যাও অনেক। এছাড়াও আছে শীতলা মন্দির। তুলনামূলক একটু কম হলেও রয়েছে রাধাকৃষ্ণের মন্দির। অপরদিকে আবার দুর্গাপুজো বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব হলেও মা দুর্গার মন্দিরও খুব একটা দেখতে পাওয়া যায় না।
তবে জানেন কী, এই খাস কলকাতাতেই জগদ্ধাত্রী মন্দির লুকিয়ে আছে বলে? হ্যাঁ, এমনই এক জায়গা হল কলকাতার শিয়ালদা স্টেশনের কাছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার তথা লেবুতলা অঞ্চল। এখানকার সার্পেন্টাইন লেনেই রয়েছে দেবী জগদ্ধাত্রীর শতাব্দী প্রাচীন মন্দির। জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা এই মন্দিরকে বলেন ঠাকুরবাড়ি। ইংরেজির ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দ অর্থাৎ বাংলার ১২৯৪ বঙ্গাব্দের ১২ মাঘ পূর্ণিমার তিথিতে কেদারনাথ দাস এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই মন্দিরে গেলে দেখা যাবে, তিন খিলানের উঁচু বেদির ওপর এই মন্দির, যার ছাদ সমতল। পুরো মন্দিরটাই দালানের। সামনের দিকে ভক্তদের দাঁড়ানোর বা বসার জন্য অলিন্দ রয়েছে। স্তম্ভগুলো গোল ও সরু। মন্দিরের সামনে রয়েছে উঠোন। তাকে ঘিরে রয়েছে ঘর। এই ঘরগুলোর সামনেও রয়েছে অলিন্দ। গর্ভগৃহের দরজার দু’পাশের দেওয়ালে রয়েছে দুটি ভাস্কর্য। মন্দির পশ্চিমমুখী। যার গর্ভগৃহে রয়েছেন অষ্টধাতুর জগদ্ধাত্রী দেবী। তিনি সিংহের ওপর উপবিষ্টা। এই মন্দিরে দেবী জগদ্ধাত্রীরই নিত্যপুজো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, এই মন্দিরে গিয়ে দেবীর শরণাপন্ন হলে দেবী ভক্তদের সকল বিপদ -আপদ থেকে রক্ষা করেন। এই জাগ্রত মন্দিরে আসতে হলে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের কাছে গিয়ে তার উলটোদিকে প্রাচী সিনেমা হলের গলি বা কবি নবীন সেন লেন বা গোমেস লেনে ঢুকতে হবে। সেই রাস্তা ধরে একটু এগোলেই পড়বে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার। এরপর সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার তথা লেবুতলা মাঠের থেকে সোজা গিয়ে কলেজস্ট্রীটগামী রাস্তার বাঁদিকে গেলেই খুঁজে পাবেন সার্পেন্টাইন রেল। সেখানেই রয়েছে এই মন্দির। প্রতি বছর জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় অগণিত ভক্তের ভিড় হয় এই মন্দিরে। এই মন্দিরের ঠিকানা : ১০৫/২, সার্পেন্টাইন লেন।