পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : যা চণ্ডী মধুকৈটভাদিদৈত্যদলনী যা মাহিষোন্মূলিনী…
মহালয়ার দিন ভোরে রেডিওতে এই চণ্ডী শ্লোক শুনে ঘুম ভাঙে আপামোর বাঙালির। মহালয়া শুধু কোনো পবিত্র দিন বা পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে জল অর্পণ করার দিন না, এই দিনটি থেকেই বাঙালির আবেগাশ্রিত ভাব-বিহ্বল চিত্তে লাগে পুজোর ছোঁয়া। তবে প্রত্যেকটি ঘটনা ও উপাচারের নেপথ্যে কোনো না কোনো কাহিনী থেকেই থাকে। ঠিক এমনই মহালয়ার সাথে জড়িত এক কাহিনী আছে।
এই দিনটিতে পূর্বপুরুষদের আত্মারা তাঁদের উত্তরসূরীদের কাছে জল ও তিল পেতে মর্তলোকে আসেন। উত্তরসূরীদের হাতে জল পেয়ে তুষ্ট হন পূর্বপুরুষেরা। জনশ্রুতি আছে, এই মহালয়াতেই পিতৃপক্ষের অবসানের মধ্যে দিয়ে দেবীপক্ষের শুভসূচনা ঘটে। তাই মহালয়াকে সর্বপিতৃ অমাবস্যাও বলা হয়ে থাকে। তবে জানেন কি, কি ভাবে এই পিতৃপক্ষের সূচনা হয়েছিল ?
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ত্রেতা যুগে শ্রীরাম লঙ্কা আক্রমণের প্রাক্কালে সূর্যের দক্ষিণায়ন চলাকালীন অর্থাত্ অসময়ে যখন দেবী দুর্গার অকালবোধন করেছিলেন, তিনি প্রথাগত ভাবেই তাঁর পিতৃপুরুষদের স্মরণ করে তাঁদের উদ্দেশ্যে জলদান করেছিলেন। এই প্রথাই পরবর্তীকালে তর্পন প্রথা হিসেবে প্রচলিত হয়।
আবার দ্বাপরে মহাভারতে কুন্তী ও সূর্যপুত্র কর্ণকে মৃত্যুর পরে ১৬ দিনের জন্য মর্তে ফিরে আসতে হয়েছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কথিত আছে, মৃত্যুর পর কর্ণ যখন স্বর্গে আসেন, তিনি দেখেন তাঁর খাদ্য হিসেবে স্বর্ণ ও রত্ন ছাড়া কিছুই ছিলনা। তখন তিনি এ ব্যাপারে দেবরাজ ইন্দ্রকে জিজ্ঞাসা করলে ইন্দ্র জানান যে, কর্ণ তাঁর জীবদ্দশায় কাউকে কোনো খাদ্য বা জল দেন করেননি। দাতা কর্ণ শুধুমাত্র ধন-রত্নই দান করেছিলেন। তাই স্বর্গে তাঁকে খাদ্য হিসেবে সোনাই দেওয়া হয়েছিল। সেই কারণবশত কর্ণকে ১৬ দিনের জন্য মর্ত্যে ফিরে পিতৃলোকের উদ্দেশ্যে অন্ন ও জল প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হয়, যা “পিতৃপক্ষ” নাম পরিচিত হয়।