নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: আশঙ্কাই সত্যি হল। প্রিয় বান্ধবী (অনেকে বলেন পরকীয়া রয়েছে) হিলারি ক্লিন্টনের সৌজন্যে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসকে রামধাক্কা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশকে সহায়তা ও ভিক্ষা দেওয়া বন্ধ করলেন। রবিবার (২৬ জানুয়ারি) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএইড)-এর আধিকারিক ব্রায়ান অ্যারন এক চিঠি পাঠিয়ে ওই কথা জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশে ইউএসএইডের যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত রাখা হচ্ছে। আর এক কানাকড়িও ভিক্ষা দেওয়া হবে না।’ মার্কিন সংস্থার ওই চিঠি পাওয়ার পরেই রাতের ঘুম উবে গিয়েছে মোল্লা ইউনূস ও তার স্যাঙাতদের। ভিক্ষার থলি নিয়ে এখন কোনও দেশের দ্বারস্থ হবেন তা বুঝতে পারছেন না তারা।
শত্রু শিবির ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মোল্লা ইউনূসের ঘনিষ্ঠতায় আগে থেকেই হাড়ে-হাড়ে চটেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁকে হারাতে ডেমোক্র্যাটদের যেএভাবে ১০ লক্ষ ডলার চাঁদা দিয়েছে ইউনূসের সুদখোরি সংস্থা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, তা ভালভাবে মেনে নিতে পারেননি নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণের আগেই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রকারী দুই মার্কিন কূটনীতিবিদ মার্শা বার্নিকাট ও ডোনাল্ড লু’কে গলাধাক্কা দিয়ে বিদেশ মন্ত্রক থেকে হঠিয়ে দিয়েছিলেন। তখনই সিঁদূরে মেঘ দেখেছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী রাজাকারদের অন্যতম নেতা মোল্লা ইউনূস। কিন্তু বাংলাদেশে যে আচমকাই ইউএসএইডের মাধ্যমে দেওয়া সহায়তা বন্ধ করে দেবেন তা ভাবতে পারেননি।
বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো (যাদের মধ্যে অন্যতম ‘সুজন’, ও ‘টিআইবি’) ইউএসএইডের মাধ্যমে গত চার বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়েছিল শেখ হাসিনা বিরোধী জনমত গঠনের ক্ষেত্রে। সেই অর্থের বড় অংশ খরচ করা হয়েছিল গত জুলাই-অগস্টে শেখ হাসিনা উচ্ছেদ আন্দোলনের ক্ষেত্রে। ফলে ওই এনজিওগুলোর ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, নয়া বিদেশ মন্ত্রী মার্কো রুবিও সব নথিপত্র খতিয়ে দেখার পরেই বাংলাদেশকে আর্থিক সহায়তা ফের শুরু করা হবে কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। কূটনীতিবিদরা মনে করছেন, ইউএসএইডের সাহায্য বন্ধের ফলে বাংলাদেশে মার্কিন অর্থায়নে যে সব প্রকল্প চলছে, তার ভবিষ্যত অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের এক আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভিক্ষা বাবদ পাওয়া টাকা যেভাবে মোল্লা ইউনূস মৌলবাদী ও জঙ্গি সংগঠনের প্রসারে খরচ করছেন, তা ভালভাবে নেয়নি ওয়াশিংটনের শীর্ষ কর্তারা। নির্বাচিত সরকার যতদিন ক্ষমতায় না আসছে ততদিন আর্থিক সাহায্য বন্ধ থাকবে।