নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: জঙ্গিবাদকে মদত দেওয়ায় বাংলাদেশকে সব ধরনের অনুদান বন্ধ করে দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার। আর ওই এক সিদ্ধান্তেই রাতের ঘুম উবেছে রাজাকার মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের। রোহিঙ্গাদের পেটে যাতে ভাত জোগানো যায় তার জন্য ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে মার্কিন দূতাবাসে ধর্না দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। রবিবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের এক পদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে ইউনূসের প্রতিনিধি খলিলুর রহমান হাত জোড় করে বলেছেন, ‘সব অনুদান বন্ধ করলেও রোহিঙ্গাদের জন্য দেওয়া সাহায্য বন্ধ করবেন না। অন্তত রোহিঙ্গাদের পেটে যাতে খাবারের জোগান দেওয়া যায়, সেই দয়াটুকু দেখান।’ সূত্রের খবর, এ বিষয়ে মার্কিন দূতাবাস আধিকারিকরা রোহিঙ্গাদের জন্য অনুদান দেওয়ার বিষয়টি মানবিকতার সঙ্গে বিবেচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শেখ হাসিনা জমানায় ঢাকার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক অম্লমধুর থাকলেও মার্কিন অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে ছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য গত কয়েক বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাহায্য করেছে মার্কিন সরকার। মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের ‘ফরেন অ্যাসিস্ট্যান্স ডট গভ’ ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের তরফে বাংলাদেশকে ২০২১ সালে ৫০০ মিলিয়ন ডলার, ২০২২ সালে ৪৭০ মিলিয়ন ডলার, ২০২৩ সালে ৪৯০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪ সালে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাংলাদেশিদের গণহত্যায় পাকিস্তান সরকারকে মদত জোগালেও স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে নানাভাবে আর্থিক সাহায্য ও খয়রাতি সাহায্য দিয়েছে দেশটি। রোহিঙ্গা সঙ্কট শুরুর পর থেকে ওয়াশিংটনের তরফে বিপুল পরিমাণ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার কুর্সিতে বসেই বাংলাদেশকে অনুদান দেওয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন সংস্থা ইউএসএইডের তরফে অন্তর্বর্তী সরকারকে চিঠি দিয়ে ওই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। আর চিঠি পেয়েই মাথায় বাজ পড়ার দশা হয়েছে মোল্লা ইউনূস সরকারের। যাদের ষড়যন্ত্রের কারণে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল সম্ভব হয়েছে সেই মার্শা বার্নিকাট ও ডোনাল্ড লু’লে পশ্চাৎদেশে লাথি কষিয়ে বিদেশ মন্ত্রক থেকে তাড়িয়েছেন ট্রাম্প। আর তার পরে অনুদান দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সিঁদূরে মেঘ দেখছে জঙ্গিবাদের সমর্থক মোল্লা ইউনূস সরকার।