নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: আগেই বাতিল হয়েছিল কূটনৈতিক পাসপোর্ট। এবার জুলাই গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাধারণ পাসপোর্টও বাতিল করল মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। আজ মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস আকাদেমিতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেসসচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। তিনি জানান, জুলাই গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ ৭৫ জনের সাধারণ পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। আর গুম কাণ্ডে জড়িত থাকায় আরও ২২ জনের পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে।
গত ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আশ্রয় নেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। দেশ ছাড়ার সময়ে বঙ্গবন্ধুর জন্যার কাছে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছিল। গত ২২ অগস্ট সেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও তাতে খুব একটা সমস্যা হয়নি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এক চুক্তির ফলেই দিল্লিতে বিনা ভিসাতে থাকার সুবিধা পেয়েছেন শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই ঢাকায় দুই দেশের সরকারের মধ্যে এক সমঝোতা সই হয়েছিল। সেখানে কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে দেশত্যাগীদের ক্ষেত্রে দেড় মাসের বিনা ভিসায় অবস্থানের সুযোগ রয়েছে।
কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের পরেই ভারত সরকারের তরফ থেকে শেখ হাসিনাকে ট্র্যাভেল ডকুমেন্টস ইস্যু করা হয়েছে। ওই বিশেষ পাস নিয়ে তিনি যে কোনও দেশেই ভ্রমণ করতে পারবেন। নিয়মানুযায়ী, কারও কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল হলে তিনি সাধারণ পাসপোর্ট পান। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী যাতে সেই সুযোগ না পান, তার জন্য তাঁর পাসপোর্টও বাতিল করা হয়েছে। জুলাই গণহত্যা ও গুমকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কার-কার পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে সে বিষয়ে অবশ্য বিস্তারিত কিছু জানাননি ইউনূসের উপ প্রেসসচিব।