নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: যত খুশি বিয়ের ক্ষেত্রে লাগাম টানতে শেখ হাসিনা জমানায় বিয়ে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কর আদায় চালু হয়েছিল। ফলে যত খুশি বিয়ে করার ক্ষেত্রে খনিকটা হলেও রাশ টানা গিয়েছিল। সেই নিয়ম বদলে দিল মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস সরকার। অর্থাৎ ইচ্ছে হলে এখন থেকে যে কেউ ১০০ বিয়ে করতে পারবেন। কোনও কর দিতে হবে না। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিয়ের উপর থেকে কর প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আর ওই ঘোষণার পরেই বিজয়োৎসবে মেতে উঠেছে জামায়াত ইসলামী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক কমিটির মতো কট্টর মৌলবাদী ও নারী বিদ্বেষী সংগঠনের সদস্যরা।
উল্লেখ্য, একাধিক বিয়ের প্রবণতা রোধ করতে ২০১৬ সালে ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জমানায় কর চালু করা হয়। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বিয়ের ওপর বিভিন্ন হারে কর ধার্য করা হয়েছিল। আর সেই কর মেটাতে হত পাত্র পক্ষকে। সিটি করপোরেশন মডেল ট্যাক্স তপশিলের ১৫২ ধারা অনুযায়ী, প্রথম বিবাহ বা প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পরে বিবাহের জন্য একজন পুরুষকে বিয়ের পিড়িতে বসার আগে ১০০ টাকা ফি দিতে হয়। প্রথম স্ত্রীর জীবদ্দশায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে ৫ হাজার টাকা, প্রথম দুই স্ত্রীর জীবদ্দশায় তৃতীয় বিয়ের জন্য ২০ হাজার টাকা কর ধার্য ছিল। আর চতুর্থ বিয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা কর দিতে হতো। তবে স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ বা নিঃসন্তান হলে এই নিয়ম কার্যকর হবে না। সেক্ষেত্রে ২০০ টাকা কর মেটাতে হতো।
গত রবিবার বিয়ের ক্ষেত্রে ধার্য কর অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মিডিয়া সমন্বয়ক তথা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম আমিনি। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,’শেখ হাসিনা পুরুষদের একাধিক বিয়ে রুখতে যে কর চালু করেছিল, তা প্রত্যাহার করতে হবে। একজন পুরুষ চাইলে একশোবার বিয়ে করবে। তাতে সরকার কেন নাক গলাবে? সাতদিনের মধ্যে বিয়ে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কর প্রত্যাহার না করলে চরম পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ ওই হুঁশিয়ারির মাত্র ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই বিয়ের উপরে ধার্য কর বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিল মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার।’