আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ওয়াশিংটন: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা থেকে প্রায় ১০ লক্ষ ফিলিস্তিনিকে স্থায়ীভাবে লিবিয়ায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, এই বিষয়ের সঙ্গে সরাসরিভাবে জড়িত দুই ব্যক্তি এবং একজন প্রাক্তন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন যে পরিকল্পনাটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং লিবিয়ার নেতৃত্বের মধ্যে ইতিমধ্যেই আলোচনা চলছে।
মার্কিন সরকার ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের বিনিময়ে লিবিয়ায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তহবিল ছেড়ে দেবে যা এক দশকেরও বেশি সময় আগে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে অবশ্য বলা হয়েছে যে এখনও এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। প্রশাসনের আলোচনা সম্পর্কে ইজরায়েলকে অবহিত করা হয়েছে। তবে, মার্কিন সরকারের একজন মুখপাত্র আবার দাবি করেছেন, এই প্রতিবেদন মিথ্যা। এই ধরণের কোনও পরিকল্পনার কোনও ভিত্তি নেই।
২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত বিদ্রোহের মাধ্যমে দীর্ঘকাল ধরে ক্ষমতাসীন স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গদ্দাফিকে উৎখাত ও হত্যা করার পর লিবিয়ায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সেই সময় লিবিয়ার পূর্ব এবং পশ্চিম অংশ মিলিশিয়া গোষ্ঠী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। লিবিয়া বর্তমানে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসন দ্বারা শাসিত। আবদুল হামিদ দ্বেইবেহের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জাতীয় ঐক্যের সরকার (Government of National Unity) এবং ওসামা হাম্মাদ-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি পরিষদ-সমর্থিত জাতীয় স্থিতিশীলতার সরকার (Government of National Stability) । জিএনইউ ত্রিপোলিতে অবস্থিত এবং দেশের পশ্চিম অংশ নিয়ন্ত্রণ করে চলে। জিএনএস আবার পূর্ব এবং মধ্য অঞ্চলে কাজ করে। এই বিভাজন লিবিয়ায় দুটি ক্ষমতার কেন্দ্র তৈরি করেছে। ফলে দুই সরকারের মধ্যে দেশের বৈধতা এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিযোগিতা চলছে।
এদিকে, শুক্রবার গাজায় ইজরায়েল একের পর এক বিমান হামলা চালিয়ে ১০৮ জনকে হত্যা করেছে। এদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ইসরাইল ইয়েমেনের দুটি বন্দরেও হামলা চালিয়েছে, যেগুলো হুথি জঙ্গি গোষ্ঠী অস্ত্র পরিবহনের জন্য ব্যবহার করত বলে দাবি।