আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের পঞ্জাব পুলিশের হাতে গ্রেফতার জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ভাগ্নে শাহরেজ খান। শুক্রবার পাক পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে শাহরেজ খানকে ২০২৩ সালের ৯ মে দাঙ্গায় মদত দেওয়ার মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দাবি করেছিল যে শাহরেজকে তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ জানিয়েছে ইমরান ভাগ্নে গ্রেফতার হয়েছে, তাঁকে অপহরণ করা হয়নি।
ডিআইজি ইনভেস্টিগেশন জিশান রাজা এক বিবৃতিতে বলেছেন, “পঞ্জাব পুলিশ শাহরেজ খানকে গ্রেফতার করেছে। ৯ মে-এর মামলার জন্য সে ওয়ান্টেড তালিকায় রাখা হয়েছিল। আজ তাকে আদালতে হাজির করা হবে। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িতরা কোনও ছাড় পাওয়ার যোগ্য নয়।” বৃহস্পতিবার রাতে ইমরান ঘনিষ্ঠ জুলফি বোখারি বলেন, “সাধারণ পোশাক পরা কাপুরুষরা আলেমা খানমের (ইমরানের বোন) বাড়িতে হামলা চালায়। তারা দরিদ্র কর্মীদের মারধর করে এবং তাঁর ছেলে শাহরেজ খানকে অপহরণ করে, যার রাজনীতির সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। এগুলো নৃশংস ফ্যাসিবাদ। আমরা এই ভয়াবহ কাজের তীব্র নিন্দা জানাই। লজ্জাজনক কাপুরুশোচিত ঘটনা এগুলি।”
“শাহরেজ খান একজন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ। তাঁকে ঘরের দরজা ভেঙে তার শোবার ঘর থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। বাড়িতে থাকা পরিচারকদের উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছিল। জোর করে ঘরে ঢুকে দুই সন্তানের সামনে শাহরেজ খানকে নির্যাতন করা হয়।” আলেমা খানম প্রকাশ্যে বহুদিন ধরে সামরিক বাহিনীর সমালোচনা করে আসছেন। এর আগে তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন যে ইমরান খান তাঁর দলের সদস্যদের বলেছেন যে জেলে তার কিছু ঘটলে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে জবাবদিহি করতে হবে। ৭২ বছর বয়সী ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ইমরান খান একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে বন্দি।
শাহরেজ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি একজন অ্যাথলিটও। ইমরান খানের আরেক ভাগ্নে হাসান নিয়াজিকে সামরিক আদালত ৯ মে সম্পর্কিত মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে জিন্নাহ হাউস সহ একাধিক সামরিক স্থাপনা ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছিল।