নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীনগর: টানা বৃষ্টি চলছে জম্মু ও কাশ্মীরে। ফলে পরিস্থিতি দিনে দিনে খারাপ হচ্ছে। জম্মুর ডোডায় মেঘ ভাঙা বৃষ্টির পর যেন ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়েছে। প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ১০টিরও বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। ইতিমধ্যেই ৪ জন নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকার্যের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বাড়ি ভেঙে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আকস্মিক বন্যায় ভেসে গিয়ে আরও দু’জন মারা গিয়েছেন। মেঘ ভাঙনেরও খবর পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসন জনগণকে নদীর তীর থেকে দূরে থাকার সতর্কতা জারি করেছে। আপাতত স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে বৈষ্ণোদেবী যাত্রা।
থাথরি সাব-ডিভিশনে মেঘ ভাঙনের ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়েছে। একইসঙ্গে জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত, ভূমিধস এবং পাথর পড়ার কারণে রাস্তার একাংশ ভেসে যাওয়ার পর ডোডা এবং কিশতওয়ারের সাথে সংযোগকারী জাতীয় সড়ক-২৪৪-এ যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ জানিয়েছেন জম্মুর অনেক অংশের পরিস্থিতি বেশ গুরুতর। পরিস্থিতি ব্যক্তিগতভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য তিনি নিজে শ্রীনগর থেকে জম্মুতে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকার্য এবং প্রয়োজন মেটাতে জেলা প্রশাসকদের অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার বন্যার প্রস্তুতি সম্পর্কে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করে প্রতিটি বিভাগকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।
জম্মুর প্রায় সব নদী ও ঝর্ণা বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। যার ফলে শহর ও অন্যান্য জায়গার অনেক নিচু এলাকা এবং রাস্তাঘাট প্লাবিত হচ্ছে। রামবান জেলার চান্দেরকোট, কেলা মোড় এবং ব্যাটারি চশমায় পাহাড় থেকে পাথর ধসের পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মঙ্গলবার সকালে ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাশ্মীর উপত্যকাকে কিশতোয়ার জেলার সঙ্গে সংযুক্তকারী সিন্থান টপ পাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রামবান জেলায় ধস নামার কারণে শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জোজিলা পাসে ভারী তুষারপাতের কারণে শ্রীনগর-লেহ জাতীয় সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মধুপুর ব্যারেজের জলস্তর এক লক্ষ কিউসেক অতিক্রম করেছে এবং ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে কাঠুয়া জেলার রাভি নদীর তীরবর্তী অনেক নিম্নাঞ্চলে ভারী বন্যা দেখা দিয়েছে। কাঠুয়ায় তারানা নদী, উজ নদী, মাগগার খাদ, সাহার খাদ, রাভি নদী এবং তাদের উপনদীগুলির জলস্তর একযোগে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। উধমপুর জেলায় রাভি নদী ২০ ফুট বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। জম্মুতে রাভি সতর্কতা সীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জম্মুতে চেনাব নদীও সতর্কতা সীমার কাছাকাছি থাকা অবস্থায় প্রবাহিত হচ্ছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ২৭ অগস্ট পর্যন্ত জম্মু, সাম্বা, কাঠুয়া, রিয়াসি, উধমপুর, রাজৌরি, রামবান, ডোডা এবং কিশতওয়ার জেলার অনেক জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাত এবং উচ্চভূমিতে মেঘ ভাঙন, আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জম্মুর বিধ্বস্ত সমস্ত জেলায় হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উচ্চ সতর্কতার মধ্যে রয়েছে।