নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর বোমায় তৈরি পোশাক শিল্পে লাল বাতি জ্বলার উপক্রম হয়েছে। শুধু যে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হ্রাস পাবে, তাই নয়। এক ধাক্কায় বেকার হওয়ার মুখে কয়েক লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিক। ট্রাম্পের শুল্ক বোমার পরেই শুরু হয়েছে থরহরিকম্প। এবার আগামী তিন মাসের জন্য ওই পাল্টা শুল্ক স্থগিত রাখার আর্জি জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দিয়েছেন তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। ওই চিঠিতে বেশ কয়েকটি মার্কিন পণ্যের উপরে ৫০ শতাংশ শুল্ক কমানোর টোপও দিয়েছেন ‘সুদখোর মহাজন’ হিসাবে পরিচিত বাংলাদেশের অবৈধ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।
গত ২ এপ্রিলই বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে কর-যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যেখানে ভারতের বিরুদ্ধে ২৭ শতাংশ, চিনের বিরুদ্ধে ৩৪ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের পণ্যের উপরে ৩৭ শতাংশ কর ধার্য করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিক্ষার উপরে যে দেশ চলে, সেই বাংলাদেশের উপরে এত বেশি কর আরোপের পিছনে মোল্লা ইউনূসের অনেকটাই অবদান রয়েছে। কেননা, মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পকে হারাতে প্রাক্তন মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টনের ফাউন্ডেশনকে ১ কোটি ডলার চাঁদা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে নব্য সুদখোর সংস্থা গ্রামীণ-এর প্রতিষ্ঠাতা ইউনূসের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের সুদখোর মহাজনকে দু’চোখে দেখতে পারেন না ট্রাম্প। তাঁর শত্রুদের ইন্ধন জোগানোতেই ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের উপরে ৩৭ শতাংশ কর আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ওই কর আরোপের পরেই বাংলাদেশের অর্থনীতি লাটে ওঠার উপক্রম হয়েছে। বন্ধের মুখে দাঁড়িয়ে কয়েক হাজার পোশাক তৈরির কারখানা। কীভাবে ওই ‘পাল্টা কর’ হামলার মোকাবিলা করা যায় তা নিয়ে শনিবার নিজের স্যাঙাতদের সঙ্গে বৈঠকেও বসেছিলেন ইউনূস। ওই বৈঠকেই ঠিক হয়েছিল, রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে অবৈধ সরকারের প্রধান উপদেষ্টাই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে চিঠি পাঠাবেন। সেই মতো সোমবার (৭ এপ্রিল) চিঠি পাঠান ইউনূস। ওই চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘আমরা আগামী তিন মাসের মধ্যে আমাদের পরিকল্পনা অনুসারে কাজ শেষ করব। তাই আমি আপনাকে অনুরোধ করতে চাই যে বাংলাদেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করুন। মার্কিন সংস্থাগুলি যাতে একচেটিয়াভাবে বাংলাদেশে বাণিজ্য করতে পারে এবং ব্যবসার নামে দাদাগিরি চচালাতে পারে, তা নিশ্চচিত করা হবে। তুলা, গম, ভুট্টা, সয়াবিন-সহ আমেরিকা থেকে কৃষিপণ্য আমদানি বৃদ্ধি করা হবে। । বাংলাদেশে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা দেওয়া হবে মার্কিন সংস্থাগুলিকে। যা পুরোপুরি শুল্কমুক্ত। গ্যাস টারবাইন, সেমিকন্ডাক্টর, চিকিৎসাসামগ্রীর মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান রপ্তানি পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কমানো নিয়ে কাজ হচ্ছে।’ ট্রাম্পের দয়া ভিক্ষা পেতে তাঁরই ঘনিষ্ঠ তথা টেসলা সিইও ইলন মাস্কের স্টার লিংককে যে বাংলাদেশে ব্যবসার অনুমতি দেওয়া হয়েচে, তাও উল্লেখ করেছেন ইউনূস। যদিও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার চিঠি ট্রাম্পের বাজে কাগজের ঝুড়িতে ঠাঁই পাবে বলে আশঙ্কা কূটনীতিবিদদের।