নিজস্ব প্রতিনিধি: আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বর্তমানে জুতো থেকে চণ্ডীপাঠ সবটাই অনলাইনে পাওয়া যায়। যার মধ্যে বেশি আকর্ষণীয় ফুড ডেলিভার। ভাল-মন্দ খাবার জন্যে এখন আর কষ্ট করে রেস্তোরাঁয় যেতে হয়না। শুধু ফোনে রেস্তরাঁর নাম, আর খাবারের তালিকা দিয়ে দিলেই বাড়ির দরজায় খাবার হাজির। আর এর নেপথ্যে রয়েছে বিভিন্ন খাবার অ্যাপগুলি। যার মধ্যে বেশি পপুলার জ্যোমেটো। গোটা বিশ্বে Zomato-র জনপ্রিয়তার ধারেকাছে আসতে পারেনি এখনও কেউ। তবে এর যেমন পজিটিভ দিক আছে, তেমনি নেগেটিভ দিকও আছে। মাঝে মধ্যে খাদ্য সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে নানারকম অভিযোগ ওঠে গ্রাহকদজর তরফ থেকে।
যেমন, খাবার আসতে দেরি, ঠিকঠাক খাবার না পৌঁছনো, বা নষ্ট খাবারের ডেলিভারি। তবে এমনটা কি শুনেছেন কখনও ১৩৩ টাকার খাবারের অর্ডার দিয়ে zomato-র থেকে ৬০,০০০ টাকা পেয়েছেন কেউ! কি অবাক হচ্ছেন তাই তো! আসলে গতবছর মে মাসে কর্ণাটকের একজন মহিলা zomato গ্রাহক ১৩৩ টাকা মূল্যের মোমো অর্ডার করেছিলেন zomato থেকে। ২০২৩ সালের ৩১ অগস্ট তিনি zomato থেকে মোমো অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু ওই মহিলার বাড়িতে নির্ধারিত সময়ে খাবার পৌঁছয় নি, এবং তিনি টাকাও ফেরত পাননি। এরপর ওই মহিলা বিভ্রান্ত হয়ে স্বাভাবিকভাবেই রেস্তরাঁ এবং জ্যোমেটোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু সমস্যা সমাধান হয়নি।
Zomato ৭২ ঘন্টা সময় চাইলেও কোনও সমস্যার সমাধান করেনি। এরপর ওই ভুক্তভোগী আর কোনও উপায় না পেয়ে এবং টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় আদালতে দ্বারস্থ হন। অবশেষে আদালতের নির্দেশে চলতি বছর মে মাসে তথা প্রায় ১ বছর পর, যে পরিমাণ টাকা তাঁর খাবার বাবদ জোমেটো নিয়েছিল, তা ফেরত দিয়েছে এবং কমিশন স্বীকার করেছে যে, জ্যোমেটোর ডেলিভারিতে ঘাটতি রয়েছে। এতে ভুক্তভোগী বিরক্ত হয়েছেন এবং মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই জ্যোমেটোকে শাস্তি হিসেবে জরিমানা করা হয়। বলা হয় যে, অভিযোগকারীকে জরিমানা হিসেবে ৫০,০০০ টাকা দিতে হবে এবং মামলার খরচ বাবদ ১০,০০০ টাকা দিতে হবে। এভাবেই ১৩৩ টাকার মোমোর অর্ডার দিয়ে জ্যোমেটোর কাছ থেকে ৬০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়ে যান যুবতী।