নিজস্ব প্রতিনিধি, বালেশ্বর: নারী নির্যাতনে ইদানিং সময়ে বারবার শিরোনামে আসছে ওড়িশা। বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে নারীর সম্মান ভুলুণ্ঠিত হচ্ছে বারবার। ওড়িশার বালেশ্বর জেলায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে অপহরণের পর গত ছয় মাস ধরে গণধর্ষণ করা হয়েছেন। অপহরণের অভিযোগ একজনের বিরুদ্ধে থাকলেও গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে অনেকের বিরুদ্ধেই। মঙ্গলবার পুলিশের কাছে গিয়ে তরুণী অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানিয়েছেন তাঁকে অপহরণ করে গত ছয় মাস ধরে ময়ূরভঞ্জ জেলার বারিপাড়ায় আটকে রাখা হয়েছিল। সেই সময় তাকে বারবার বিভিন্ন জন মিলে ধর্ষণ করে। মহিলা বাধা দিতে গেলে তাকে শারীরিক নিগ্রহও করা হয়। নির্যাতিতা জানিয়েছেন একদিন অপহরণকারী ও ধর্ষকদের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি পালিয়ে আসেন। তারপরেই ভোগরাই থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
ভোগরাই থানার ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জ রোহিত কুমার বল বলেন, ৩ মার্চ মহিলার মা অভিযোগ দায়ের করেন যে তার মেয়ে একটি ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছে। সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছে ৩ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের গয়না। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়। যাই হোক, তরুণী পালিয়ে আসার পর তাঁকে বালাসোরের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বুধবার তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানান ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জ। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ওড়িশায় নারী সুরক্ষা একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। জুনের মাঝামাঝি থেকে ওড়িশা রাজ্য জুড়ে ধর্ষণের বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। তার মধ্যে কিছু আবার গণধর্ষণ। ২৮ জুন গঞ্জাম জেলায় এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় কর্তৃক সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষিত হয়েছে। ২২ বছর বয়সী অভিযুক্তকে পরে গ্রেফতার করা হয়। ২৫ জুন, গঞ্জাম জেলায় এক ক্লিনিক মালিক কর্তৃক ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পৃথক একটি ঘটনায়, ময়ূরভঞ্জ জেলার একটি স্থানীয় মন্দির থেকে বাড়ি ফেরার সময় এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল।
১৯ জুন ময়ূরভঞ্জ জেলায় ৩১ বছর বয়সী এক তরুণীকে চারজন মিলে গণধর্ষণ করে। একদিন আগে, কেওনঝড় জেলায় বাড়ির কাছে একটি ধানক্ষেতে গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, আগের দিন সন্ধ্যা থেকে কিশোরী নিখোঁজ ছিল। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল। ১৫ জুন গোপালপুর সমুদ্র সৈকতে এক কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
বালেশ্বরের বিএড কলেজের যে ছাত্রীর কলেজ ক্যাম্পাসে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহননের চেষ্টা করেছিলেন তিনিও বিভাগীয় অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন যৌন হেনস্থার। তিনদিনের যমে মানুষে টানাটানি শেষে গত ১৫ জুলাই ভুবনেশ্বর এইমসে মারা যান ওই ছাত্রী। শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল তরুণীর। নারী নির্যাতনের ঘটনায় গত ১৯ জুলাই ফের শিরোনামে এসেছিল ওড়িশা। পুরীতে বছর পনেরোর এক কিশোরীকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল দুর্বৃত্তরা। কিশোরীটি তার বন্ধুর বাড়ি যাচ্ছিল। সেই সময় বায়াবার গ্রামে তিনজন দুর্বৃত্ত এসে আচমকা মেয়েটির গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার পর তিনজনেই চম্পট দেয়। স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। সম্প্রতি ময়ূরভঞ্জ জেলায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ১১ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তারই জামাইবাবু সহ তিনজনের বিরুদ্ধে।