নিজস্ব প্রতিনিধি, ওড়িশা: যে স্থানে ঈশ্বর নিজে থেকে এসে অধিষ্ঠিত হন তা হয় ধাম। পৃথিবীতে এমন চারটি ধাম রয়েছে। যথা পুরীর জগন্নাথ ধাম, রামেশ্বরম ধাম, দ্বারকাধাম এবং বদ্রীনাথধাম। এর মধ্যে বাঙালি আর জগন্নাথধাম পুরী একে অপরের সঙ্গে ওতঃপ্রতঃ ভাবে জড়িত। আগে বছরে অন্তত দু’বার মানুষ বেড়াতে যেত পুরীতেই। তাই জগন্নাথ দেবের আবাসস্থল নিয়ে মানুষ, বিশেষত বাঙালি একটু বেশিই আবেগপ্রবণ। সম্প্রতি পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের মহাপ্রসাদ খাওয়ার একটি ভিডিও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
দ্বাদশ শতাব্দীতে নির্মিত পুরীর মন্দিরে জগন্নাথদেবকে নিবেদিত পবিত্র খাদ্যদ্রব্যই হল মহাপ্রসাদ। এই প্রসাদ সব সময় মাটিতে বসে পরিবেশন করা হয় এবং খাওয়া হয়। পুরীর সমুদ্র সৈকতের নিকটবর্তী একটি রিসোর্টে খাওয়ার টেবিলে সেই প্রসাদ পরিবেশন করতে দেখা গিয়েছে মন্দিরের একজন পুরোহিতকে। টেবিলের পাশে রাখা চেয়ারে বসে রয়েছে শিশুসহ কমপক্ষে ১০ জন। তাদের সকলকে মহাপ্রসাদ পরিবেশন করছেন ওই পুরোহিত।
এর মধ্যে একজন ব্যক্তি এসে মহাপ্রসাদ টেবিলে বসে খাওয়ার ব্যাপারে তাদের জিজ্ঞাসা করলে দলটিতে থাকা এক মহিলা উত্তর দেন যে তারা এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আশেপাশের মানুষকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। এরপর ওই অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি পরিবেশনকারি পুরোহিতের দিকে ফিরে সরাসরি প্রশ্ন করেন মহাপ্রসাদ ভক্ষণের নিয়ম জানা সত্ত্বেও কেন তিনি এই কাজ করতে দিয়েছেন।
ଭିଡ଼ିଓ ରେ ଦେଖନ୍ତୁ ସେ ହୋଟେଲର କର୍ମଚାରୀ ମନା କରିବା ସତ୍ତ୍ବେ ସେମାନେ କିପରି ଡାଇନିଂ ଟେବୁଲ ଉପେର ମହାପ୍ରସାଦ ବାଢ଼ି ଗୋଡ଼ ହଲେଇ ମୋବାଇଲ ଚଲାଇ ପାଉଛନ୍ତି..ଆଉ ତହୁଁ ବଡ଼ ସେ ବ୍ରାହ୍ମଣ ମହାଶୟ ଯିଏ ମହାପ୍ରସାଦ ତାଙ୍କୁ ବାଢ଼ିକି ଦେଇଛନ୍ତି।ଆଉ ସେ ଦାଢ଼ିଆ ବାବା ସବୁ ଦେଖି ମଧ୍ଯ ଚୁପ ହୋଇ ଠିଆ ହୋଇଛନ୍ତି।ଦୋଷ କାହାକୁ ଦେବେ? pic.twitter.com/ktH4KLpTkd
— 🦋šrαdhα🦋 (@princess_sradha) May 16, 2025
স্বভাবতই, ভিডিওটি ভাইরাল হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। জগন্নাথ ভক্তরা এই ভিডিও দেখে বেজায় চটেছেন। তারপরই মন্দির কর্তৃপক্ষ একটি বিবৃতি জারি করে বলেছে যে টেবিলে মহাপ্রসাদ খাওয়া ঐতিহ্যগত ভাবে অন্যায়। এই ব্যাপারটি সম্পর্কে তাঁরা শুনেছেন। এই ভাবে মহাপ্রসাদ ভক্ষণ ঐতিহ্যের পরিপন্থী হওয়ায় ভক্তদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
— Shree Jagannatha Temple Office, Puri (@SJTA_Puri) May 17, 2025
মন্দির কর্তৃপক্ষ ( Shree Jagannath Temple Office) জানিয়েছে, মহাপ্রসাদ ঐশ্বরিক, তা মাটিতে বসেই খাওয়া উচিত। পাশাপাশি তারা ভক্তদের মন্দিরের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এক বিবৃতি মারফত কর্তৃপক্ষ বলেছে, “মন্দির থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে যে, ভগবানের ঐশ্বরিক মহাপ্রসাদ অন্নব্রহ্ম রূপে পূজা করা হয়। মাটিতে বসে মহাপ্রসাদ খাওয়ার রীতি অনাদিকাল থেকেই চলে আসছে। তাই সকল ভক্তদের বিনীতভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে যে ঐতিহ্যের পরিপন্থী কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকুন। এর মধ্যে অবশ্যই রয়েছে খাবারের টেবিলে বসে মহাপ্রসাদ খাওয়ার মতো ঘটনা।”
স্থানীয়দের অনুভূতি এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা বিবেচনা করে, মন্দির কর্তৃপক্ষ পুরীর হোটেলগুলিকে তাদের অতিথিদের এই ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সতর্ক করতে বলেছে।