নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর আরোপের হুমকির জেরে দালাল স্ট্রিটে শুরু হয়েছে রক্তক্ষরণ। সোমবারের পরে মঙ্গলবারেও শেয়ারবাজারের রক্তক্ষরণ বন্ধ হল না। দিনভর অস্থিরতা শেষে একদিনেই ১,০১৮ সূচক হারাল সেনসেক্স। আর ৩১০ সূচক খুঁইয়েছে নিফটি। একদিনেই লগ্নিকারীদের পকেট থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে ৯ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। দু’দিনে ১৫ লক্ষ কোটি টাকা হারিয়ে পথে বসেছেন শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা। ইতিমধ্যে শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়ে গিয়েছে। বুধবার রক্তক্ষরণ থামানো না গেলে সেনসেক্স বা নিফটির সূচক কোথায় গিয়ে থামবে, তা ভেবেই আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বাজার বন্ধের সময়ে সেনসেক্স দাঁড়িয়েছিল ৭৭ হাজার ৩১১ দশমিক ৮০ সূচকে। এদিন সকালে সামান্য অঙ্ক বেড়ে ৭৭,৩৮৪ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট নিয়ে শুরু হয় লেনদেন। কিন্তু বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই নিচের দিকে নামতে শুরু করে সেনসেক্স ও নিফটি। বেলা একটা নাগাদ গোঁত্তা খেয়ে নিচের দিকে নামতে শুরু করে দুইয়ের সূচক। এক ধাক্কায় ১,১০০-র বেশি পয়েন্ট খোয়ায় সেনসেক্স। পরে খানিকটা ঘুরে দাঁড়ালেও ফের ধাক্কা খায়। এক সময়ে ৭৬,০৩০.৫৯ পয়েন্টে গিয়ে ঠেকে সেনসেক্স। লগ্নিকারীদের মধ্যে হাহাকার লক্ষ্য করা যায়। শেষ পর্যন্ত অস্বস্তি বাড়িয়ে ১,০১৮ পয়েন্ট খুঁইয়ে ৭৬ হাজার ২৯৩ দশমিক ৬০ সূচক নিয়ে বন্ধ হয় সেনসেক্স। আর নিফটি ৩০৯ দশমিক ৮০ সূচক খুঁইয়ে ২৩ হাজার ৭১ দশমিক ৮০ সুচক নিয়ে বন্ধ হয়। শুধু নিফটি কিংবা সেনসেক্সেরই পতন ঘটেনি। মিডিয়াম ও স্মলক্যাপও জোর ধাক্কা খেয়েছে।
সেনসেক্সে থাকা সংস্থার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থা জোমাটো, টাটা মোটরস, পাওয়ার গ্রিড করপোরেশন অফ ইন্ডিয়া। নিফটির অন্তর্গত সংস্থাগুলির মধ্যে আইসার মোটরস, অ্যাপলো হসপিটালস ও শ্রীরাম ফাইনান্স সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে।