নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওয়ে নিরীহ পর্যটকদের উপরে জঙ্গি হামলার জবাব কীভাবে দেওয়া হবে তা চূরান্ত করতে বুধবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে শুরু হয়েছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রীগোষ্ঠীর (সিসিএস) বৈঠক। উচ্চ পর্যায়ের ওই বৈঠকে উপস্থিত রযেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।
গতকাল মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’ হিসাবে পরিচিত অনন্তনাগের পহেলগাঁওয়ের বৈসারনের এক রিসর্টে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে এলোপাথাড়ি গুলিতে ২৬ নিরীহ পর্যটককে খুন করে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নামে এক জঙ্গি সংগঠনের সন্ত্রাসীরা। ওই ভয়াবহ হামলার কবর পেয়েই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফর কাটছাঁট করে বুধবার সকালে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিমানবন্দরেই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসেন তিনি। তড়িঘড়ি বৈটক ডাকা হয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রীগোষ্ঠীর।
সন্ধে ছয়টার পরে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নম্বর লোককল্যাণ মার্গের বাসভবনে শুরু হয়েছে ওই বৈঠক। শ্রীনগর থেকে দিল্লি পৌঁছেই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকে ঢোকার মুখে তাঁর হাতে ছিল লাল রংয়ের একটি ফাইল। সূত্রের খবর, কারা জঙ্গি হামলায় জড়িত, কীভাবে হামলা সংগঠিত হয়েছে সেই সব তথ্য রয়েছে ফাইলটিতে।
পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হানা নিয়ে গতকাল থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছেন দেশবাসী। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনেরা হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন। কেন্দ্রের উপরে বদলা নেওয়ার চাপ ক্রমশই বাড়ছে। কীভাবে বদলা নেওয়া হবে অর্থাৎ প্রত্যাঘাত করা হবে, সেই রণকৌশল নির্ধারণেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রীগো্ষ্ঠী বৈঠকে বসেছে বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকের আগেই কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ হুঙ্কার দিয়েছেন, ‘জঙ্গিদের এমন জবাব দেওয়া হবে যে সারাজীবন মনে রাখবে।’