আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দায় মুখর হয়েছিল গোটা বিশ্ব। তবে যাদের মদতে লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ, হিজবুল মুজাহিদিনের মতো জঙ্গি গোষ্ঠী গড়ে ওঠে পাকিস্তানে, তাদের বিশেষ ভ্রূক্ষেপ চিল না। পহেলগাঁও হামলার দায় স্বীকার করেছিল টিআরএফ। এই টিআরএফ বা দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট হল লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন। পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিল সইফুল্লাহ কাসুরি। লস্করের এই কমান্ডার পাকিস্তানে বসেই হামলার পরকল্পনা করেছিল। কাসুরিকে সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি রাজনৈতিক সমাবেশে দেখা গিয়েছে। সেই সমাবেশে পাক নেতা মন্ত্রীদের পাশাপাশি সন্ত্রাসীরাও উপস্থিত ছিল। রাজনৈতিক সমাবেশটি থেকে একাধিক উস্কানিমূলক বক্তৃতা প্রচারিত হয়। সেই সঙ্গে ভারত বিরোধী জোরালো স্লোগান দেওয়া হয়।
পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগ (PMML) পাকিস্তানের পারমাণবিক পরীক্ষার বর্ষপূরণ উপলক্ষে ‘ইউম ই তকবীর’ নামে একটি সমাবেশের আয়োজন করেছিল। সেখানেই চলেছে ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার। এই সমাবেশে লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সঈদের ছেলে তালহা সঈদও ছিল। ভারত তালহাকেও সন্ত্রাসী ঘোষণা করেছে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাসুরি বলেছে “পহেলগাঁও হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসাবে আমাকে দোষারোপ করা হয়েছিল। এখন আমার নাম সারা বিশ্বে বিখ্যাত হয়ে উঠেছে।” সইফুল্লাহ কাসুরি এও জানায় যে বাহাওয়ালপুরের এলাহাবাদে ‘মুদাসসির শহিদ’ নামে একটি সেন্টার, একটি রাস্তা এবং একটি হাসপাতাল তৈরি করবে সে। গোপন সূত্র মারফত খবর, অপারেশন সিঁদুর অভিযানে যে সব জঙ্গিরা নিহত হয়েছিল তাদের মধ্যে একজন ছিল মুদাসসির আহমেদ। হাই প্রোফাইল সন্ত্রাসবাদী তালিকায় মুদাসসিরের নাম ছিল।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগ লস্কর-ই-তৈবার কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পায়। সাম্প্রতিক সময়ে পিএমএমএল ভারত বিরোধী একাধিক মন্তব্য করেছে। তারা লাহোর, করাচি, ইসলামাবাদ, ফয়সলাবাদের মতো পাকিস্তানের প্রধান প্রধান শহরগুলিতে বিক্ষোভ করে হাফিজ সাঈদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছে। ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ পিএমএমএলের কার্যকলাপের নেপথ্যে রয়েছে বলে মনে করা হয়।
পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালিয়ে যে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস এবং সন্ত্রাসীদের হত্যা করা হয় তাদের মধ্যে ছিল ইউসুফ আজহার, আবদুল মালিক রউফ এবং মুদাসসির আহমেদের মতো মোস্ট ওয়ান্টেডরা। এরা IC-814 বিমান ছিনতাই ও পুলওয়ামা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল।