নিজস্ব প্রতিনিধি: কাজের চাপ, পরিবারে অশান্তি, কাছের মানুষের অবহেলা, শরীরে নানা ব্যাথা যন্ত্রণা, সবকিছুর ওষুধ একমাত্র ভ্রমণ। সবকিছু ভুলে লম্বা ছুটি নিয়ে কোথাও ঘুরতে চলে যান, বা বেশিদিনের ছুটি না পেলেও ২ রাত ৩ দিনের জন্যে কোথাও ঘুরতে যেতেই পারেন। যা কিনা নিমেষেই আপনাকে হতাশা ভুলিয়ে দেওয়ার জন্যে যথেষ্ঠ। হ্যাঁ, সকলের জীবনের কম-বেশি হতাশা থাকে। কিন্তু এই হতাশার কোনও ওষুধ নেই! কয়েকদিনের ছুটিতে সবকিছু ভুলে বেরিয়ে পড়ুন খোলামেলা প্রকৃতির বুকে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে। দেখবেন সব দুঃখ-হতাশা গায়েব। এক্ষেত্রে হাতে যদি বেশিদিন সময় না থাকে, তাহলে নিঃসন্দেহে বেরিয়ে পড়তে পারেন উড়িষ্যাল বালোসোর বা বালেশ্বরের উদ্দেশ্যে। একসঙ্গে পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল, সবটার মজা পেয়ে যাবেন। চলুন দেখিয়ে দেওয়া যাক, এখানে ঘোরার মতো কী কী আছে?
বালেশ্বর উড়িষ্যার একটি শান্ত এবং নির্মল সমুদ্র সৈকতের তীরে অবস্থিত। এখানে হিল ট্রেক করা যাবে, তেমনি দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে জলপ্রপাত ও মন্দির। সঙ্গে রয়েছে বাগদাদ সমুদ্র সৈকত। যা বালেশ্বর রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ১৬ কিমি দূরে অবস্থিত।
কীভাবে বালাসোর পৌঁছাবেন
কলকাতা থেকে ট্রেনে করে বালেশ্বর পৌঁছতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। এরপর অটো বা বাসে করে দর্শনীয় স্থানে পৌঁছতে পারেন। যেমন বালেশ্বর, চাঁদিপুর, পাঁচলিঙ্গেশ্বরের কাছে রিসর্ট ইত্যাদি। হাওড়া থেকে ও শিয়ালদহ থেকে পুরীগামী যে কোনও ট্রেনেই পৌঁছতে পারেন বালোসোর।
কী কী দর্শনীয় স্থান আছে
চাঁদিপুর সমুদ্র সৈকত
এই সৈকত সম্পর্কে লক্ষণীয় সবচেয়ে আশ্চর্যজনক জিনিসগুলির মধ্যে একটি হল যে, ভাটার সময় সমুদ্রের জল প্রায় পাঁচ কিলোমিটারে নেমে যায়।
সমুদ্র রীতিমতো লুকোচুরি খেলে। সৈকত থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখা একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
সিমলিপাল সংরক্ষিত বন
সিমলিপাল হল ময়ূরভঞ্জ জেলার ওড়িশার একটি সুন্দর শহর। পাশাপাশি এটি ভারতের অন্যতম প্রধান বাঘ প্রকল্প এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত। এখানে জঙ্গল সাফারি করা যাবে। পাশাপাশি সবুজ ঘেরা ক্যাম্পিং করার জন্য একটি আদর্শ জায়গা। আপনি সিমলিপাল এলিফ্যান্ট রিজার্ভের একটি ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন। এটি চাঁদিপুর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
নীলাগিরি
এটি বালেশ্বর জেলায় অবস্থিত একটি মনোমুগ্ধকর স্থান এবং নীলগিরি জগন্নাথ মন্দিরের জন্য পরিচিত। এর ঠিক পাশেই রয়েছে নীলগিরি পাহাড়। এই পাহাড়ের উপরে অবস্থিত পঞ্চলিঙ্গেশ্বর মন্দির। যা চণ্ডীপুর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বলা হয়, জনশ্রুতি, বনবাসে থাকাকালিন শ্রীরামচন্দ্র ও তাঁর সন্তান সম্ভবা স্ত্রী সীতাদেবী মহাদেবের আরাধনা করেছিলেন এই পঞ্চলিঙ্গেশ্বর পাহাড়ে। প্রতিবছর এখানে পুজো দেওয়ার জন্যে হাজার হাজার শরণার্থী সমবেত হন। মন্দিরটি বহুবর্ষজীবী স্রোতের উপর স্থাপন করা একটুকরো শিলাখন্ডের উপর পরপর পাঁচটি অতীব ক্ষুদ্র, এক ইঞ্চি উচ্চতার ঢিপিসদৃশ অংশ – এই পাঁচটি ঢিপি দিয়ে তৈরি।
ভূধারা চণ্ডী মন্দির
এটি প্রাচীন শিল্প-সহ মা চণ্ডীদেবীর সঙ্গে চাঁদিপুরে অবস্থিত আরেকটি মন্দির।
দাগাড়া সৈকত
সুবর্ণরেখা নদীর মোহনার কাছে দাগারা সমুদ্র সৈকত লাল কাঁকড়া এবং সবুজ ক্যাসুয়ারিনা বনে ভরা সবচেয়ে সুন্দর দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতগুলির মধ্যে একটি। এটি উপকূলীয় পথে চন্ডিপুর সৈকত থেকে ৩৬ কিমি এবং সড়কপথে বালাসোর থেকে ৬৫ কিমি দূরে অবস্থিত।
ক্ষীর চোরা গোপীনাথ মন্দির
এটি বালেশ্বর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে রেমুনা শহরে অবস্থিত আরেকটি মন্দির। এখানে ভগবান কৃষ্ণের বিগ্রহ রয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে, শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু পুরী যাওয়ার পথে এই মন্দিরটি পরিদর্শন করেছিলেন। তাই এখানে তার পদচিহ্ন রয়েছে।