নিজস্ব প্রতিনিধি, লখনউ: কথায় বলে, ‘কারও পৌষ মাস তো কারও সর্বনাশ।’ মহাকুম্ভে পাপ ধুতে এসে অনেক পুণ্যার্থীর সর্বনাশ হয়েছে। নামী মোবাইল-সহ দামী জিনিসপত্র খুঁইয়েছেন। আর চোর বাবাজিরা ভিড়ের ফায়দা উঠিয়ে চোখের নিমিষে হাত সাফাইয়ের কাজটা সূক্ষ্মভাবে সেরে নিয়েছেন। মহাকুম্ভের মতো মহাযজ্ঞ চোর বাবাজিদের জন্য কতটা পোয়াবারো ছিল, তার প্রমাণ মিলেছে। বারাণসী ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে ৯০টি মূল্যবান মোবাইল-সহ এক চোরকে পাকড়াও করেছেন জিআরপি ও আরপিএফের যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। ধৃতের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া ফোনের বাজারমূল্য কমপক্ষে ৬০ লক্ষ টাকা। চোরের হেফাজত থেকে ওই বিপুল পরিমাণ মোবাইল উদ্ধার করতে পেরে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছে রেল পুলিশ আধিকারিকদের।
বারাণসী ক্যান্টনমেন্ট জিআরপি থানার ওসি হেমন্ত কুমার শুক্রবার (৭ মার্চ) সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘সন্দেহজনক গতিবিধি হওয়ায় বিহারের মহারাজগঞ্জের বাসিন্দা রবি কুমার ওরফে গোলুর সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও শরীর তল্লাশির সিদ্ধান্ত নেয় জিআরপি ও আরপিএফের যৌথবাহিনীর সদস্যরা। আর ওই তল্লাশি চালাতে গিয়েই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। রবির সঙ্গে থাকা মহিলাদের ব্যবহৃত ব্যাগ ও পার্স থেকে একে একে উদ্ধার হয় ৯০টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন। সব ফোনই নামী সংস্থার এবং যথেষ্ট দামী। ৯০টি মোবাইল ফোনের পাশাপাশি নগদ ১৯৫০ টাকাও উদ্ধার করা হয়। জেরায় রবি স্বীকার করেছে, মহাকুম্ভের মেলায় ভিড়ের সময়েই পুণ্যার্থীদের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন হাত সাফাইয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে।’
বারাণসী ক্যান্টনমেন্ট জিআরপি থানার ওসি হেমন্ত কুমার জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন আসল মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইএমইআই নম্বর দেখে আসল মালিকদের খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চলছে। মোবাইল চুরির পিছনে শুধু রবি কুমার একা রয়েছে নাকি কোনও চক্র রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।