নিজস্ব প্রতিনিধি: জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত ২২ এপ্রিল মঙ্গলবার ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। বেছে বেছে হিন্দু ধর্মের পর্যটকদের মধ্য থেকে শুধু পুরুষদের খুন করেছে সন্ত্রাসবাদীরা। হামলার দায় স্বীকার করেছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’। এই নক্কারজনক আক্রমণের নিন্দায় সরব হয়েছে সারা বিশ্ব। সন্ত্রাসী হামলার পর, কংগ্রেস নেতা এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি শুক্রবার শ্রীনগরে পৌঁছেছেন। তিনি অনন্তনাগের হাসপাতালে আহতদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সূত্র মারফত খবর পান যে অনন্তনাগ হাসপাতালে কোনও আহত ব্যক্তি নেই। সবাইকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।তাই এখনই সেখানে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই তাঁর।
তবে এক আহত ভারতীয় সেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাই তাঁর সঙ্গে দেখা করা অনুমতি চেয়েছেন রাহুল গান্ধি। এখনও উত্তর মেলেনি। এই মুহূর্তে অপেক্ষা করছেন কংগ্রেস নেতা। দুপুর ২টোর সময় মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রাহুল গান্ধির। তিনি স্থানীয় কংগ্রেস নেতা এবং জনগণের সঙ্গেও দেখা করে কথা বলবেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর বিকেল ৪টের দিকে লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার সঙ্গে বৈঠক রয়েছে বিরোধী দলনেতার। বৈঠল শেষে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হবেন রাহুল।
পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধস্বরূপ বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিএস) একটি জরুরি বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই ১ মে থেকে কার্যকরভাবে তাদের কূটনৈতিক মিশনের কর্মী সংখ্যা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০ জনে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানি হাইকমিশনের সমস্ত সামরিক, নৌ ও বিমান প্রতিরক্ষা কর্মীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের ভারত ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামাবাদে ভারতীয় উপদেষ্টাদেরও প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য সার্ক ভিসা অব্যাহতি প্রকল্প স্থগিত করা হয়েছে। সমস্ত ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ভিসা নিয়ে যারা এই মুহূর্তে ভারতে রয়েছেন সেই সব পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন তাঁদের ১ মে’র মধ্যে দেশ ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আটারি-ওয়াঘা স্থল সীমান্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভারত ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করেছে।