নিজস্ব প্রতিনিধি, গুয়াহাটি: সাংবাদিক সিদ্ধার্থ বরদারাজন এবং করণ থাপারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে অসম পুলিশ। এফআইআরে নাম রয়েছে সদ্য প্রয়াত জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক, পাকিস্তানি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব নাজাম শেঠি এবং ভারতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আশুতোষ ভরদ্বাজ সহ অজানা ব্যক্তিদের। গত ৯ মে গুয়াহাটির বাসিন্দা বিজু ভার্মার দায়ের করা এফআইআরে অভিযোগ করা হয়েছে যে, পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলা এবং অপারেশন সিঁদুরের পর অনলাইন নিউজ প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য ওয়্যার’ এবং এর কিছু লেখক ও সম্পাদক ধারাবাহিকভাবে নিবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন। এর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ভারতের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা ক্ষুন্ন হচ্ছিল। পাশাপাশি ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল।
পুলিশ গত সপ্তাহে সিদ্ধার্থ বরদারাজন এবং করণ থাপারকে সমন জারি করে। তাদের ২২ অগস্ট ক্রাইম ব্রাঞ্চের দফতরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের পুলিশের ‘জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা’ থেকে সুরক্ষা দিয়েছে। মরিগাঁও পুলিশের দায়ের করা একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এর আগেও দুই সাংবাদিককে সুরক্ষা দিয়েছিল। মামলাটি ২০২৩ সালের বিএনএস-এর ১৫২ (দেশদ্রোহ), ১৯৬, ১৯৭(১)(ডি)/৩(৬), ৩৫৩, ৪৫ এবং ৬১ ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার গুয়াহাটি পুলিশ আরও এক সাংবাদিক অভিষার শর্মার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। তিনি আইনিভাবে জবাব দেবেন বলে জানিয়েছেন। বিজু ভার্মা অভিযোগ করেছেন করণ থাপার ‘দ্য ওয়্যার’-এ নাজাম শেঠি, আশুতোষ ভরদ্বাজ এবং জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন রাজ্যপাল সত্য পাল মালিকের মতো ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিক সাক্ষাৎকারের আয়োজন করেছিলেন। সেই সব সাক্ষাৎকারে পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর এবং আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারগুলিতে বারবার ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলা, এমনকি পরিকল্পিত হত্যাকণ্ডের মতো শব্দবন্ধের ব্যবহার করা হয়েছিল যা নাগরিকদের মধ্যে সরকার সম্পর্কে অবিশ্বাসের বীজ বপন করতে পারে। দেশবাসী মনে করতেই পারেন কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের রক্ষা করতে সক্ষম নন।
পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পরপরই ‘দ্য ওয়্যার’-এ পাঁচটি নিবন্ধ প্রকাশ পায়। সেগুলি হল ‘টু ওয়ার অর নট টু ওয়ার’, ‘ওভার প্রোপাগান্ডা’, ‘আফটার অপারেশন সিঁদুর’, ‘কাশ্মীরে রক্তাক্তকরণ উত্তর নয়’ এবং ‘পাকিস্তান কর্তৃক ভারতীয় বিমান বাহিনীর রাফাল ধ্বংস’। অভিযুক্তের দাবি এই সকল নিবন্ধ পরিকল্পিতভাবে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা, এর সার্বভৌম প্রতিক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, যাচাই ছাড়াই শত্রুতামূলক বক্তব্যকে আরও প্রশংসিত করা এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে সাম্প্রদায়িক বা নির্বাচনী উদ্দেশ্যের সাথে তুলনা করার মতোই অন্যায়। যখন জাতীয় সংহতি সর্বাগ্রে, তখন এই ধরনের নিবন্ধ প্রকাশ কেবল জনসাধারণের আস্থা এবং কর্মকাণ্ডের গোপনীয়তাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না বরং অস্থিরতারও সৃষ্টি করে, জীবনকে বিপন্ন করে এবং ভারতের আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।