নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘ভোট চুরি’ নিয়ে ‘বিশ্বাসযোগ্যহীন’ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একের পর এক অ্যাটম বোমা ফাটাচ্ছেন রাহুল গান্ধি। আজ বুধবার (১৩ অগস্ট) এক নয়া ভিডিও জারি করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েকজন দেহাতি পুরুষ ও মহিলার সঙ্গে ড্রয়িং রুমে বসে চা পান করছেন রাজীব তনয়। ওই ভিডিও পোস্টের ক্যাপশনে খানিকটা কটাক্ষ ছুড়ে লিখেছেন, ‘জীবনে দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু কখনও মৃত মানুষের সঙ্গে বসে চা খাওয়ার সুযোগ হয়নি। এই অভূতপূর্ব সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ।’
जीवन में बहुत दिलचस्प अनुभव हुए हैं,
लेकिन कभी ‘मृत लोगों’ के साथ चाय पीने का मौका नहीं मिला था।इस अनोखे अनुभव के लिए, धन्यवाद चुनाव आयोग! pic.twitter.com/Rh9izqIFsD
— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) August 13, 2025
বিহারের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দ্বৈরথ শুরু হয়েছে রাহুল গান্ধির। বিহারে বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর অছিলায় এক ঝটকায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে মোদি সরকারের দয়ায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ পাওয়া জ্ঞানেশ কুমার ও তার স্যাঙাতরা। অভিযোগ উঠেছে, বিজেপির ইশারাতে মূলত মুসলিম ও মহিলা ভোটারদের পরিকল্পিতভাবেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। কিন্তু ওই মামলায় আদৌ কোনও লাভ হবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান বিরোধী শিবির।
তবে শীর্ষ আদালতের মুখাপেক্ষী হয়ে না থেকে নির্বাচন কমিশনের কেলোর কীর্তির পর্দাফাঁস করে চলেছেন রাহুল গান্ধি। কয়েকদিন আগেই কর্নাটকের মহাদেবপুরা বিধানসভা কেন্দ্রে কিভাবে ‘ভোট চুরি’ হয়েছে তার বিস্ফোরক প্রমাণ হাজির করেছেন। বিহারের ভোটার তালিকায় ১২৩ বছর বয়সী এক ভোটার থাকার প্রমাণ পেশ করেছেন। আর এদিন কমিশনের ভোটার তালিকায় মৃত হিসাবে ঘোষিত সাত ভোটারের সঙ্গে চা পানের ভিডিও প্রকাশ করে নির্বাচন সদনের শীর্ষ কর্তাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছেন। কংগ্রেসের তরফে বলা হযেছে, এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের ভোট চুরির যে প্রমাণ সামনে আনা হয়েছে তা দুর্নীতির হিমশৈলীর শিখর মাত্র।
কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে রাহুলের বাংলোতে এদিন চা-চক্রে হাজির ছিলেন বিহারের রাঘোপুরা বিধানসভা কেন্দ্রের সাত ‘মৃত’ ভোটার। চা-চক্রে হাজির ছিলেন হরেন্দ্র রায়, রামিকবাল রায়, লালমুণি দেবী, বচিয়া দেবী, লালবতী দেবী, পুনম কুমারী ও মুন্না কুমার। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর পরে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় এরা প্রত্যেকেই মৃত। রাহুলের সঙ্গে চা খেতে খেতে সাত জনেই জানিয়েছেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর কাজ চলাকালীন প্রত্যেকেই কমিশনের নিযুক্ত বুথ লেভেল অফিসারের কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছিলেন। তা সত্বেও তাদের ‘মৃত’ দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।