নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি(Price Hike) নিয়ে এতদিন পর্যন্ত যারা গলা ফাটাচ্ছিলেন তাঁদের জেনে রাখা প্রয়োজন গত কয়েক মাস যাবৎ মূল্যবৃদ্ধির সমস্যা(Price Hike Problem) ভোগাচ্ছে গোটা দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষদের। সম্প্রতি এক অর্থনৈতিক সমীক্ষায়(Economical Survey) উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, যেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কেনাকাটার পরিমাণ অনেকখানি কমিয়ে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন প্রতি মাসে প্রয়োজন অনুযায়ী ১০ কেজি চাল কিনতেন কিন্তু সেই ব্যক্তিই মূল্যবৃদ্ধির পর প্রতি মাসে চাল কেনার পরিমাণ ৭-৮ কেজিতে নামিয়ে এনেছেন।
আরও পড়ুনঃ আর কয়েকটা দিনের অপেক্ষা, এরপরই আবহাওয়ার ভোলবদল রাজ্যে, শীত কি আসছে?
এরকম উদাহরণ অহরহ চোখে পড়ছে দেশের অর্থনীতিবিদদের। এই ঘটনা কিন্তু মোটেই সন্তোষজনক নয়। বাজারের খরচে কাটছাঁট করছেন সাধারণ মানুষ। কম দামের খাবার বেশি অর্ডার করা হচ্ছে। বিক্রিবাটায় ভাটার টান টের পাচ্ছে স্বল্পমেয়াদি ভোগ্যপণ্য সংস্থাগুলি। বিগত কয়েক মাস ধরেই এই সমস্যা চলছে বলে জানা গিয়েছে। এর জেরে দেশের অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, মধ্যবিত্তরা এইভাবে শিল্পের চাহিদা কমালে দেশের আর্থিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না তো?
আরও পড়ুনঃ শিশু দিবসেই প্রকাশ্যে এল শিশু নির্যাতনের ঘটনা, নেপথ্যে ৩ স্কুলকর্মী
অর্থনীতিবিদদের ব্যাখ্যা, অতিমারির পরে মূলত শহরাঞ্চলের চাহিদায় ভর করে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল আর্থিক কর্মকাণ্ড। কিন্তু এখন ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টো। গ্রাম এবং শহরতলিতে বিক্রিবাটা কিছুটা বাড়লেও, অবনতি হয়েছে মেট্রো শহরে। সেখানে ক্রমশ মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠছে মধ্যবিত্তদের। জিনিসপত্রের দাম অনুযায়ী মানুষের আয় বাড়ছে না ফলে স্বাভাবিকভাবেই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। অক্টোবর মাসে খুচরো বাজারের মূল্যবৃদ্ধি ৬% পেরিয়ে যায় যা গত ১৪ মাসের তুলনায় সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। সম্প্রতি সিটি ব্যাঙ্কের সমীক্ষা বলেছে, দেশের শহরাঞ্চলে, বিশেষত মেট্রো সিটিগুলিতে প্রয়োজনীয় চাহিদা এখন দু’বছরের তলানিতে। কমেছে উড়ানের টিকিট বুকিং, জ্বালানি বিক্রি, মজুরি। শহরের চাহিদা কমার কারণে কার্যত ঝিমোচ্ছে অর্থনীতি। এই হারে চাহিদা কমতে থাকলে দেশের অর্থনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলেও মনে করা হচ্ছে।