নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার কয়েকদিন আগে কাশ্মীরকে পাকিস্তানি মুসলিমদের ‘ঘাড়ের শিরা’ বলে অভিহিত করেছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসীম মুনির। তার পরপরই ঘটে যায় পহেলগাঁও হামলা। এই হামলার ঘটনায় আবার তিক্ত হয় ভারত-পাক সম্পর্ক। প্রথমে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে, তারপর অপারেশন সিঁদুরের মধ্য দিয়ে পহেলগাঁওয়ের বদলা নেয় ভারতের তিন বাহিনী। মঙ্গলবারের মিসাইল অভিযানের পর বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসীম মুনিরের ‘সাম্প্রদায়িক’ মন্তব্য এবং ২৫ জন নিরীহ পর্যটক ও এক স্থানীয় ঘোড়াচালককে কাশ্মীরে হত্যার মধ্যে স্পষ্ট যোগসূত্র খুঁজে বের করেছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি।
জেনারেল আসীম মুনির ১৬ এপ্রিল কাশ্মীরের প্রতি পাকিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ভূস্বর্গকে ‘ঘাড়ের শিরা’ হিসেবে ঘোষণা করেন। পাশাপাশি বলেন পাকিস্তানের জনগণ যেন শিশুদের এই গল্প শোনাতে ভুলে না যায় যে তারা ‘হিন্দুদের থেকে আলাদা’।
এদিন সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মিস্রি বলেন, “পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের এপ্রিল মাসের ভাষণ ছিল আদপে একটি সাম্প্রদায়িক বক্তব্য। তার ভাষণের সঙ্গে পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার মধ্যে যোগসূত্র থাকতেই পারে। কারণ তারপরেই পহেলগাঁও হামলা হয়।”
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাকিস্তানের ভারতের তিনিওটি রাজ্যের ১৫ টি শহরে হামলা চালানোর চেষ্টা প্রসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলন করেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। তাঁর সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিংহও উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ভারতের করা অপারেশন সিঁদুরের পর বুধবার রাতে পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীর, পঞ্জাব, শ্রীনগর, অবন্তিপোরা, অমৃতসর, লুধিয়ানা, চণ্ডীগড়, জলন্ধর, ভাতিন্ডা, ভূজ, কাপুরথালা, আদমপুর, পাঠানকোটের ভারতীয় সেনা ছাউনি লক্ষ্যবস্তু করার দুঃসাহস দেখায়। কিন্তু ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের ছক বানচাল করে দেয়। শুধু তাই নয়, ভারত লাহোরে পাক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করে দেয়।