নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: যুদ্ধবিরতি চাইছে ভারত-পাকিস্তান, দাবি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার এই তথ্য জানালেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। তিনি বলেন, “আজ বিকেল ৩.৩৫ মিনিটে দুই দেশের ডিজিএমওদের মধ্যে একটি কথোপকথন হয়। তাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে উভয় দেশই বিকেল ৫টা থেকে আকাশ, জল এবং স্থলে অবিলম্বে আক্রমণ বন্ধ করবে। সেই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে।” ১২ মে উভয় দেশের কর্মকর্তারা পরবর্তী কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান ভারতের বিদেশ সচিব। আগামী ৪৩ ঘণ্টা দুই দেশ সবরকমের যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবে।
পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন যে ভারত ও পাকিস্তান তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকরভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও লেখেন, “পাকিস্তান সর্বদা তার সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার সাথে আপোষ না করে এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে।”
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হঠাৎ করে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পিছনে একটি বড় কূটনৈতিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্রের খবর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত ডোভাল এবং বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর গত বেশ কিছুদিন ধরে আমেরিকার প্রশাসনিক প্রধানদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়েছেন। এই আলোচনার লক্ষ্য ছিল সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো।
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি চাইছে এই তথ্য সবার আগে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে লিখেছেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ রাত ধরে আলোচনার পর আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে ভারত ও পাকিস্তান একটি পূর্ণ ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। সাধারণ জ্ঞান এবং দুর্দান্ত বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য উভয় দেশকে অভিনন্দন।”
পোস্টটি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও শেয়ার করেছিলেন। যদিও তিনি আগে বলেছিলেন যে আমেরিকা এমন কোনও যুদ্ধে জড়াবে না যেখানে তাদের কোনও বিষয়ই নেই।