নিজস্ব প্রতিনিধি: পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে সরাসরি কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী ও ৯/১১-এর মাস্টারমাইন্ড ওসামা বিন লাদেনের তুলনা করলেন পেন্টাগনের প্রাক্তন আধিকারিক মাইকেল রুবিন। ভারতে ঘন ঘন সন্ত্রাসী হামলার নেপথ্যে রয়েছেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির। গত রবিবার ফ্লোরিডায় একটি নৈশভোজে ভারতের উদ্দেশে একাধিক উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য করে ছিলেন আসিম মুনির। আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি ভারতকে পরামাণু হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। আর বিনা কারণে সেনাপ্রধানের মুখে এরকম যুদ্ধের প্ররোচনামূলক বক্তব্যকে মোটেও ভাল চোখে দেখেননি পেন্টাগনের প্রাক্তন আধিকারিক। তিনি আসিম মুনিরের এ বক্তব্যের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদী ওসামা বিন লাদেনের মিল পেয়েছেন।
তবে শুধু ভারত নয়, গত রবিবার (১০ অগস্ট) ফ্লোরিডায় নৈশভোজে সরাসরি ভারতের সঙ্গে অর্ধেক বিশ্বকেও ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা একটি পারমাণবিক জাতি। পাকিস্তানের হাতেও পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। আমরা যদি মনে করি আমরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি, তা হলে আমরা কাউকে ছাড়ব না, অর্ধেক বিশ্বকে ধ্বংস করেই ধ্বংস হব।’ তাঁর এই বক্তব্যতেই ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার (১২ অগস্ট) একটি সংবাদ সংস্থাকে পেন্টাগনের মাইকেল রুবিন জানিয়েছেন, ‘আমেরিকার মাটিতে পাকিস্তানের এই হুমকি আমরা মানব না, এটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। মুনিরের এই বক্তব্য যেন সন্ত্রাসবাদীদের কথার প্রতিধ্বনি। পাক সেনাপ্রধানের এমন মনোভাব অনেকের মনেই একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। রাষ্ট্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে কিনা সেই নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। ফিল্ড মার্শালের বক্তব্য ওসামা বিন লাদেনের কাছ থেকে আমরা যা শুনেছিলাম তার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমেরিকানরা সন্ত্রাসবাদকে অভিযোগের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে, তারা অনেক সন্ত্রাসীর আদর্শিক ভিত্তি বোঝে না। যেমন, আমাদের চোখে আসিম মুনির হলেন স্যুট পরা ওসামা বিন লাদেন।’
এরপর সীমান্তের অস্থিরতার ইতিহাস তুলে ধরে মাইকেল রুবিন বলেছেন, পাকিস্তানের সেনা প্রধান আসিম মুনির স্পষ্টতই জঙ্গিগোষ্ঠীর কার্যকলাপকে ইন্ধন জোগাচ্ছেন। এ যেন পহেলগাঁও হামলায় ভারতের কাছে হেরে যাওয়া আসিম মুনিরের জ্বালাময়ী, প্ররোচনামূলক ভাষণ। এরপর পেন্টাগনের প্রাক্তন আধিকারিক ট্রাম্পকে বিঁধে বলেন, ‘আসিম মুনির আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে যখন এই মন্তব্য করেছিলেন, তখন ট্রাম্পের উচিত ছিল আধ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে গিয়ে আমেরিকা থেকে পাকিস্তান ফেরত পাঠানো। ফ্লোরিডার টাম্পায় এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের ভাষণের পর প্রাক্তন মার্কিন কর্মকর্তার এই মন্তব্য এসেছে। রুবিন আরও বলেছেন, “আসিম মুনিরের সঙ্গে কোনও বৈঠক থেকে মার্কিন জেনারেলরা ওয়াকআউট না করাই পদত্যাগের কারণ হওয়া উচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানকে একটি প্রধান নন-ন্যাটো মিত্র হিসেবে বিবেচনা করার কোনও কারণ নেই। পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তালিকাভুক্ত প্রথম প্রধান নন-ন্যাটো মিত্র হওয়া উচিত এবং আর মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের সদস্য হওয়া উচিত নয়। আসিম মুনিরের আমেরিকার অবাঞ্ছিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত এবং ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত কোনও পাকিস্তানি কর্মকর্তার আমেরিকান ভিসা পাওয়া উচিত নয়।”
প্রসঙ্গত, সোমবার, ভারত মুনিরের মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল এবং এগুলিকে পাকিস্তানের ক্রমাগত “পারমাণবিক অস্ত্রের আক্রমণ”-এর উদাহরণ হিসাবে বর্ণনা করেছিল। এক সরকারি বিবৃতিতে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) বলেছিল যে, “আসিমের মন্তব্যগুলি পাকিস্তানের পারমাণবিক কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণের অখণ্ডতা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে। এটি দুঃখজনক যে এই ধরনের হুমকিমূলক মন্তব্য একটি বন্ধুত্বপূর্ণ তৃতীয় দেশের মাটি থেকে করা হয়েছে। ভারত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলের কাছে নতি স্বীকার করবে না। আমরা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ চালিয়ে যাব।”