নিজস্ব প্রতিনিধি, প্রয়াগরাজ: ফের এলাহাবাদ হাইকোর্টের এক রায় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি সৌরভ শ্রীবাস্তব গত ৪ এপ্রিল এক মামলার রায় দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘যে সমস্ত দম্পতি তাদের বাবা-মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করছেন, তাদের প্রাণনাশের প্রকৃত হুমকি না থাকলে পুলিশি নিরাপত্তা দাবি করতে পারবেন না।’
অভিভাবকদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে মনের মানুষের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন শ্রেয়া কেশরওয়ানি নামে এক তরুণী। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে তাদের। শ্রেয়া ও তার স্বামী বিষয়টি নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। পরিবারের সদদস্যরা যাতে তাদের দাম্পত্য জীবনে নাক না গলান সেই আর্জি জানানোর পাশাপাশি পুলিশি নিরাপত্তাও চেয়েছিলেন। সেই আর্জি খারিজ করে বিচারপতি সৌরভ শ্রীবাস্তব তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ‘আবেদনকারীদের তরফে পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে যে যুক্তি দেখানো হয়েছে, তার কোনও সারবত্তা নেই। আবেদনকারীদের হুমকি দেওয়া গুরুতর হুমকি দেওয়া হয়েছে কিংবা তাদের বৈবাহিক জীবনে কোনও বাধার সৃষ্টি করা হয়েছে, এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি। যদি সত্যিই উপযুক্ত কারণ থাকত, তাহলে দম্পতিকে নিরাপত্তা প্রদান করার বিষয়টি ভেবে দেখা হতো। কিন্তু কোনও হুমকি না থাকলে অভিভাবকদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে করা দম্পতিকে একে অপরকে সমর্থন করতে এবং সমাজের মুখোমুখি হতে শিখতে হবে।
আবেদনের নিষ্পত্তি করতে গিয়ে পর্যবেক্ষণে বিচারপতি বলেছেন, ‘লতা সিং বনাম উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকারের মামলা এবং অন্য একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের ভিত্তিতেই আবেদনকারী দম্পতিকে পুলিশি সুরক্ষা প্রদানের জন্য কোনও আদেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যেখানে বলা হয়েছে যে আদালতগুলি এমন যুবক-যুবতীদের সুরক্ষা প্রদানের জন্য নয় যারা শুধুমাত্র তাদের নিজস্ব ইচ্ছা অনুসারে বিয়ে করার জন্য পালিয়ে গিয়েছে।’ পর্যবেক্ষণ মন্তব্যে বিচারপতি এও বলেছেন, ‘আবেদনকারীদের জীবন এবং স্বাধীনতা বিপন্ন হওয়ার কোনও কারণ বা উপাদান নেই। এমন কোনও প্রমাণও নেই যা প্রমাণ করে যে আবেদনকারীদের উভয়ের আত্মীয় আবেদনকারীদের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের কারণ হতে পারে। তাছাড়া আবেদনকারীরা ব্যক্তিগত বিবাদীদের কথিত অবৈধ আচরণের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের করার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য আকারে কোনও নির্দিষ্ট আবেদন জমা দেননি। ইতিমধ্যেই চিত্রকূট জেলার পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। যদি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সত্যি মনে করে হুমকি পাচ্ছেন আবেদনকারীরা, সেক্ষেত্রে তারা আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আর যদি কোনও ব্যক্তি তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে বা মারধর করে, তাহলে আদালত এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে।’