নিজস্ব প্রতিনিধি: উত্তর প্রদেশে এক শিশুকে হেনস্থার মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করল সুপ্রিম কোর্ট। সম্প্রতি এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রাম মনোহর নারায়ণ মিশ্র এই সংক্রান্ত মামলায় রায় দানের সময় বলেছিলেন যে শিশুর বুকে হাত দেওয়া, সালোয়ারের দড়ি স্পর্শ করা বা তাকে কাল্ভার্টের নীচে টেনে নিয়ে যাওয়া ধর্ষণের সমতুল্য নয়। শীর্ষ আদালত এই রায় দানকে অসংবেদনশীলতা বলে অভিহিত করেছে। বিচারপতি বিআর গাভাই এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের বেঞ্চ বলেছে যে সিদ্ধান্ত তাঁদের মর্মাহত করেছে। এই বিষয়ে বেঞ্চ কেন্দ্র ও উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে জবাব চেয়েছেন।
আদালত তার আদেশে বলেছে, “আমরা অত্যন্ত মর্মাহত হয়ে জানাচ্ছি যে এই রায় বিচারপতির সংবেদনশীলতার অভাব প্রকাশ করে। এমন নয় যে এই রায় তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ৪ মাস ধরে শুনানি চলার পর এটি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা সাধারণত এই পর্যায়ে রায় স্থগিত করতে দ্বিধা করি। কিন্তু অনুচ্ছেদ ২১, ২৪ এবং ২৬-এ করা মন্তব্যগুলি আইনের নীতির বিরুদ্ধে এবং অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করে, তাই আমরা উক্ত অনুচ্ছেদে করা মন্তব্য স্থগিত করছি।”
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বেঞ্চের সাথে একমত পোষণ করে বলেন যে কিছু সিদ্ধান্তে মন্তব্য নিষিদ্ধ করার কারণ রয়েছে। বিচারপতি গাভাই বলেন যে এটি একটি গুরুতর বিষয় এবং সম্পূর্ণরূপে সংবেদনশীল নয়। এই সবই ঘটেছিল সমন জারির পর্যায়ে। বিচারকের বিরুদ্ধে এমন কঠোর শব্দ ব্যবহারের জন্য আমরা দুঃখিত।
প্রসঙ্গত, ১১ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করার চেষ্টায় অভিযুক্ত হয়েছে দুই যুবক। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে এই নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করে। কিন্তু অভিযুক্তদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার ধারা প্রযুক্ত হয় না।
তখনই এলাহাবাদ হাই কোর্তের বিচারপতি বলেন, ‘‘অভিযুক্ত পবন এবং আকাশ ১১ বছর বয়সি নির্যাতিতার বুক স্পর্শ করে পায়জামার গিঁট খুলে ফেলে এবং তাকে কালভার্টের নীচে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে পথচারীদের হস্তক্ষেপে মেয়েটিকে ওখানেই ফেলে রেখে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। অভিযুক্ত পবন এবং আকাশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং মামলার তথ্য ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধকে প্রমাণিত করে না।’’