নিজস্ব প্রতিনিধি: কিছুদিন আগে এলাহাবাদ হাইকোর্টের একজন বিচারক বলেছিলেন স্তনে হাত দেওয়া বা সালোয়ারের দড়ি খোলার চেষ্টা ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা নয়। এর কয়েক সপ্তাহ পরে ওই বিচারকেরই সহকর্মী একটি ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্তকে জামিন দিলেন। এখানেই শেষ নয়, বিচারকের বক্তব্য নির্যাতিতা “নিজেই নিজের সমস্যা ডেকে এনেছিলেন। তাই ধর্ষণের জন্য তিনিই দায়ী।’
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দায়ের করা একটি এফআইআর অনুসারে, ধর্ষিতা যুবতী স্নাতকোত্তর ছাত্রী। দিল্লিতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন। ২১ সেপ্টেম্বর যুবতী বন্ধুদের সঙ্গে হজ খাসের কাছে একটি রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন। সেখানে ভোর ৩টে পর্যন্ত মদ্যপান করেছিলেন।
বিচারক সঞ্জয় কুমার সিংয়ের বক্তব্য, “নেশাগ্রস্ত অবস্থায় যেহেতু ওই যুবতীর সহায়তার প্রয়োজন ছিল, তাই তিনি নিজেই সাহয্যকারী নিশ্চল চন্দকের বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম নিতে রাজি হন।”নির্যাতিতার অভিযোগ, সাহায্য করার নামে নিশ্চল যুবতীকে এক আত্মীয়ের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে দুবার ধর্ষণ করেন। বিচারকের যুক্তি, নির্যাতিতার দ্বারা প্রকাশিত মামলার তথ্য বিবেচনা করে এটিকে ধর্ষণের মামলা না বলে বরং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মধ্যে সম্মতিসূচক সম্পর্কের মামলা বলা যেতে পারে।
অভিযুক্তের আইনজীবীর জানিয়েছেন, বিচার প্রক্রিয়া থেকে নিশ্চল চন্দকের পালিয়ে যাওয়া বা প্রমাণ নষ্ট করার কোনও সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া তিনি ১১ ডিসেম্বর থেকে কারাগারে আছেন। নিশ্চলের কোনও অপরাধমূলক ইতিহাসও নেই। আইনজীবী আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন যে অভিযুক্ত জামিনের স্বাধীনতার অপব্যবহার করবেন না।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, “নির্যাতিতা এবং সাহায্যকারী উভয়েই প্রাপ্তবয়স্ক এই বিষয়ে কোনও দ্বিমত নেই। ধর্ষিতা এম.এ-এর ছাত্রী, তাই তিনি এফআইআর-এ প্রকাশিত নিজের কাজের নৈতিকতা এবং তাৎপর্য বুঝতে যথেষ্ট সক্ষম ছিলেন। যুবতীর অভিযোগ সত্য বলে গৃহীত হলেও, এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে তিনি নিজেই নিজের সমস্যা তৈরি করেছিলেন এবং ধর্ষণের জন্য দায়ী ছিলেন। যুবতীর মেডিকেল পরীক্ষায় প্রমাণিত যে তাঁর হাইমেন রাপচার হয়েছে, কিন্তু তা যৌন নির্যাতনের ফলেই কিনা সে বিষয়ে চিকিৎসক কিছু বলেননি।” আদালত নিশ্চল চন্দককে জামিন মঞ্জুর করে তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করেছে।