নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্লোগান ছিল ‘আপকে বার ৪০০ পার’। কিন্তু সেই শ্লোগানে গলা মেলায়নি ভারতবাসী। ৪০০’র বেশি দেওয়া তো বহু দূরের কথা, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাও কেড়ে নিয়েছেন তাঁরা। আর এখন তাই নরেন্দ্র মোদিকে(Narendra Modi) সরকার চালাতে পদে পদে শরিকদের মেজাজ বুঝে পা ফেলতে হচ্ছে। কার্যত তৃতীয় এনডিএ সরকার(NDA Government) গঠনের পর ৩ মাসও কাটেনি, এর মধ্যেই একের পর এক ইস্যুতে ধাক্কা খেতে হচ্ছে নরেন্দ্র মোদিকে। আগের ঘোষণা থেকে পুরো ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে নতুন অবস্থান নিতে হচ্ছে মোদি সরকারকে। একসময় মোদি নিজে আপত্তি তুলেছিলেন, দেশে জাতিগত জনগণনা বা Caste Census নিয়ে। আর এখন শোনা যাচ্ছে, শরিক দলগুলির চাপে সেই Caste Census’র পথেই হাঁটা দিতে পারে মোদি সরকার। জনগণনার সঙ্গেই করা হবে জাতিগণনা। সূত্রে জানা গিয়েছে, শীঘ্রই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে পেশ করা হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নোট। আর তাতে থাকবে আসন্ন জনগণনায় Caste Census’র অন্তর্ভুক্তিকরণের বার্তা।
আরও পড়ুন, তথ্য-প্রমাণ লোপাট করে মামলা দুর্বল করে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছে, দাবি সিবিআইয়ের
লোকসভা নির্বাচনের বহু আগে থেকেই দেশজুড়ে চর্চায় রয়েছে Caste Census বা জাতিভিত্তিক জনগণনা। সৌজন্যে বিরোধীদের সম্মিলিত চাপ। গত আড়াই বছর ধরে রাহুল গান্ধি(Rahul Gandhi) দাবি করে এসেছেন Caste Census’র জন্য। সেই দাবিকে গুরুত্ব দিতে চায়নি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কেন্দ্রে সরকার চালিয়ে আসা নরেন্দ্র মোদির সরকার। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে Caste Census’র সেই দাবি যে জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, লোকসভা ভোটে তার প্রমাণ মিলেছে বেশ কয়েকটি রাজ্যে। দেখা গিয়েছে, অনগ্রসর শ্রেনীর ভোটব্যাঙ্ক(Backward Class Vote Bank) অনেকটাই সরে গিয়েছে বিজেপির থেকে। ওই ভোট গিয়েছে কংগ্রেসের ঝুলিতে। অর্থাৎ রাহুল গান্ধীর লাগাতার Caste Census’র দাবিকে সমর্থন করছেন দেশের অনগ্রসর শ্রেনীর মানুষেরা। লোকসভা ভোটের আগে এই অনগ্রসর ইস্যু হোক কিংবা বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, কোনওটাই মেনে নিতে রাজি ছিলেন না নরেন্দ্র মোদি। নির্বাচনের পরই কিন্তু তাঁকে সম্ভবর উল্টোপথেই হাঁটা দিতে হবে। কেননা নীতীশ কুমারের দল সংযুক্ত জনতা দল, চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি আর চিরাগ পাসোয়ানের দল লোক জনশক্তি পার্টি এই Caste Census’র পক্ষে। তাঁরা রীতিমত চাপ বাড়াচ্ছে মোদি সরকারের ওপর এই Caste Census’র জন্য।
আরও পড়ুন, শুভেন্দুর জেলায় ৯৩ জন চিকিৎসককে শোকজ করল স্বাস্থ্য দফতর
সেই চাপের কাছেই এখন কার্যত নতি স্বীকার করছেন মোদি। পদ্মশিবির সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যা ঘোষণা করার তা তিনি করবেন। বস্তুত, মোদির কাজ সহজ করে দিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘও। দীর্ঘদিন ধরে সঙ্ঘের দাবি ছিল, ধর্মভিত্তিক জনগণনা হোক। তাঁরা Caste Census’র বিরুদ্ধে ছিলেন। কিন্তু সেই অবস্থানেও বদল এসেছে। সঙ্ঘের তরফ থেকে Caste Census’র ব্যাপারে সবুজ সঙ্কেত পেয়েছে মোদি সরকার। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের সেপ্টেমওর মাস থেকে দেশজুড়ে জনগণনা বা Census শুরু হতে চলেছে। দেশে শেষবার এই Census হয়েছিল ২০১১ সালে। প্রতি ১০ বছর অন্তর দেশে এই জনগণনা বা Census’র কাজ হয়। কিন্তু ২০২১ সালে তা হতে পারেনি কোভিড ও লকডাউনের জেরে। এবার ২০২৪ সালে সেই Census’র কাজ করিয়ে নিতে চায় মোদি সরকার। তবে সরকার যদি শেষ পর্যন্ত Caste Census’র সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে, Census Act-এ বদল আনতে হবে। সেই কারণেই কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি ক্যাবিনেট নোট তৈরি করবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে তা পাশ করানো হবে। তারপর আইন সংশোধন করেই Caste Census’র অনুপ্রবেশ ঘটবে জাতিগণনার কাজে।