নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পহেলগাঁও হামলার পর প্রথমবার বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। শনিবার (৩ মে) ৭ লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে শুরু হয়েছে ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ‘সামরিক বাহিনীর প্রত্যাঘাত নিয়ে দুই নেতার মধ্যে কথা হতে পারে।’
গত ২২ এপ্রিল অনন্তনাগ জেলার পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকার এক রিসর্টে হামলা চালিয়ে ২৬ পর্যটক-সহ ২৮ জনকে নৃশংসভাবে খুন করে পাকিস্তানি জঙ্গিরা। ওই হামলা নিয়ে ইতিমধ্যেই দিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে মোদি সরকার। আটারি সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানি পণ্য আমদানি ও চিঠিপত্র আদান-প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পাকিস্তানি জাহাজের ভারতীয় বন্দরে প্রবেশের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাকিস্তানি নাগরিকদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানি বিমানের জন্য আকাশপথ বন্ধ করা হয়েছে। এমনকি সিন্ধু জল চুক্তিও রদ করার মতো মারাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের তরফ থেকেও ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য সম্পর্ক স্থগিত রাখার পাশাপাশি ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় বিমানের জন্য পাকিস্তানি আকাশপথ ব্যবহারে ‘নো-এন্ট্রি’ বোর্ড ঝোলানো হয়েছে।
পহেলগাঁও হামলার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লাগাতার হুমকি দিয়ে চলেছেন, পর্যটকদের নৃশংস খুনে জড়িতদের ছাড়া হবে না। যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। কিন্তু হামলার ১১ দিন পার হওয়া সত্বেও দিল্লিকে তেমন কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে দেখা যায়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বেড়ে চলেছে। পহেলগাঁও হামলার পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠককে যথেষ্টই গুরুত্ব দিচ্ছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।