নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: মরাঠা ভূমে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে কে বসবেন, সে বিষয়ে ফয়সালা নেওয়ার ভার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে ছাড়লেন শিবসেনা সুপ্রিমো একনাথ শিন্ডে। আজ বুধবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা ঠিক করুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা মাথা পেতে নেব।’ শিন্ডের ওই মন্তব্যের পরেই চর্চা শুরু হয়েছে, পরিস্থিতি অনুকুল নয় বুঝতে পেরে মুখ্যমন্ত্রীর দাবিদারিত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন শিবসেনা সুপ্রিমো। প্রধানমন্ত্রী মোদির হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ছাড়ার কথা জানিয়ে কার্যত মুখরক্ষা করার চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি।
গত শনিবার (২৩ নভেম্বর) মহারাষ্ট্রের বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরেছে মহায়ুতি জোট। কিন্তু বিধানসভার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পরে ৯৬ ঘন্টা কেটে গেলেও স্পষ্ট হয়নি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে কে বসবেন। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের পদ নিয়ে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের শিবসেনার সঙ্গে বিজেপির স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে জটিলতা কাটাতে উদ্যোগী হয়েছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে জরুরি তলব করা হয়েছে বিদায়ী উপমুখ্যমন্ত্রী তথা পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার অন্যতম দাবিদার দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে। বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি জানাবেন তিনি।
মহায়ুতি জোটের অন্যতম শরিক শিবসেনার সুপ্রিমো তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে নতুন সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। এ ক্ষেত্রে দেবেন্দ্র ফড়নবিশের উদাহরণও দিয়েছে। যদিও উপমুখ্যমন্ত্রী পদ নিতে রাজি না হওয়ার কথা বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে উপমুখ্যমন্ত্রিত্ব না নেওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন শিন্ডে। এদিন শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় শিরসাত স্পষ্ট জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে একনাথ শিন্ডেকে সামনে রেখেই বিধানসভা ভোটে লড়েছিল মহায়ুতি। তাই জোটের অপ্রত্যাশিত ফলাফলের কৃতিত্ব তাঁর। সেই কারণে মুখ্যমন্ত্রী পদে ফের শিন্ডেই সবচেয়ে যোগ্য। যিনি রাজ্যের এক নম্বর পদে আসীন ছিলেন, তাঁকে দ্বিতীয় পদে বসানোর প্রস্তাব অসম্মানজনক। ওই প্রস্তাব মানার প্রশ্নই ওঠে না।’ সঞ্জয় শিরসাতের ওই মন্তব্যের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই জরুরি সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। তাঁর শরীরী ভাষা-ই বলে দিচ্ছিল, হাল ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। খানিকটা আবেগপ্রবণ হয়ে শিবসেনা সুপ্রিমো বলেন, ‘আমি নিজেকে কখনই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মনে করিনি। সাধারণ মানুষের একজন বলেই ভেবেছি।’ এর পরেই মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে জট কাটানোর দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত করার কথা জানান।