নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘এক দেশ, এক ভোট’ নিয়ে আগামী ৮ জানুয়ারি যৌথ সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠক বসছে। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) লোকসভার সচিবালয় সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে। প্রথম দিনের বৈঠকে কমিটির সদস্যদের সামনে ‘এক দেশ, এক ভোট’ বিল নিয়ে একটি বিশেষ প্রেজেন্টেশন দেবেন আইন মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা। কেন এই বিল তৈরি করা হয়েছে সেই ব্যাখ্যাও দেওয়া হবে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ‘এক দেশ, এক ভোট’ এর শ্লোগান তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর কথায়, ‘এক সঙ্গে বিধানসভা-লোকসভা সহ অন্যান্য ভোট করানো হলে শুধু টাকার সাশ্রয়ই হবে না। নির্বাচনের জন্য যে উন্নয়নমূলক কাজকর্ম বার বার ছেদ পড়ার যে ট্র্যাডিশন রয়েছে, তাও দূর হবে। এতে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য সরকারের যে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রয়েছে তা আরও বেশি করে মানুষের কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়া যাবে। গত মঙ্গলবারই তড়িঘড়ি করে লোকসভায় পেশ করা হয় ‘এক দেশ, এক ভোট বিল’। ওই বিল নিয়ে অবশ্য কংগ্রেস-তৃণমূল কংগ্রেস সহ বিরোধী শিবিরের তরফ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। তৃণমূল সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘এক দেশ, এক ভোট’ পরিকল্পনাকে মোদি সরকারের স্বৈরাচারী আসন বলে আখ্যা দিয়েছেন।
লোকসভায় বিল পেশ হওয়ার পরেই ভোটাভুটির আর্জি জানান বিরোধী সাংসদরা। সেই আর্জি মেনে নেন লোকসভার অধ্যক্ষ। ভোটাভুটি শেষে দেখা যায় বিলকে সমর্থন জানিয়েছেন ২৬৯ জন সাংসদ। বিপক্ষে ১৯৮ জন। এই বিল পেশ করার পরে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল প্রস্তাব করেন, বিলগুলি যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো উচিত। সেই প্রস্তাব মেনে গঠিত হয় সংসদের দুই কক্ষের সাংসদদের নিয়ে গঠিত হয় যৌথ কমিটি। ৩৯ জনের কমিটিতে ২৭ জন রয়েছেন লোকসভা থেকে। আর রাজ্যসভা থেকে রয়েছেন ১২জন। এর মধ্যে এনডিএর তরফ থেকে রয়েছেন ১৯ জন সদস্য, ইন্ডিয়া জোটের তরফে রয়েছেন ১৫ জন। কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে বিজেপি সাংসদ পি পি চৌধুরীকে। সদস্য হিসাবে রয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধি, সাকেত গোখেলরা।