নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: লোকসভায় ‘এক দেশ, এক ভোট’ বিল পেশের সময়ে হাজির থাকার জন্য বিজেপি সাংসদদের হুইপ জারি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই হুইপকে অমান্য করে মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিল পেশের সময়ে গরহাজির ছিলেন বিজেপির ২০ জনেরও বেশি সাংসদ। তাদের মধ্যে বাংলার তিন সাংসদও রয়েছেন। তাঁরা হলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার ও জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়। হুইপ জারি সত্বেও সাংসদদের গরহাজির থাকার ঘটনায় বেজায় চটেছে বিজেপির সংসদীয় দল। অনুপস্থিত সাংসদদের কাছে ইতিমধ্যেই গরহাজির থাকার কারণ জানিয়ে জবাব চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কেন হুইপ অমান্য করা হল, তার জবাব চাওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও কোনও প্রতিক্রিয়া জানাতে চাননি শান্তনু ঠাকুর ও জগন্নাথ সরকাররা।
লোকসভায় যাতে গুরুত্বপূর্ণ ‘এক দেশ, এক ভোট’ বিল নিয়ে ভোটাভুটিতে দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়েছিল বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। গতকাল সোমবারই দলের সব সাংসদকে বিল পেশের সময়ে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়ে তিন লাইনের হুইপ জারি করা হয়। কিন্তু এদিন বিল পেশের পর ভোটাভুটিতে দেখা যায়, ২০ জনের বেশি বিজেপি সাংসদ গরহাজির রয়েছেন সভায়। যারা গরহাজির ছিলেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার, জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়, জগদম্বিকা পাল, বিএস রাঘবেন্দ্র, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, বিজয় বাঘেল, ভাগীরথ চৌধুরী, উদয়রাজে ভোঁসলে।
এদিন ভোটাভুটির সময়ে লোকসভায় হাজির ছিলেন ৪৬১ জন সাংসদ। নিয়মানুযায়ী সাংবিধানিক বেল পাশ করানোর জন্য দুই তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। অর্থাৎ বিলের পক্ষে ৩০৭ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ভোটাভুটিতে দেখা যায় বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৬৯ জন সাংসদ। আর বিলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৯৮ জন। ভোটাভুটির পরেই বিলটি যৌথ সংসদীয় সমিতির (জেপিসি) কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভোটাভুটির পরেই গরহাজির সাংসদদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। কেন হুইপ জারি সত্বেও এদিন লোকসভায় গরহাজির ছিলেন তা জানতে চেয়ে অনুপস্থিত সাংসদদের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।