নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: অপারেশন সিঁদুর অভিযানের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানকে কঠিন শিক্ষা দিয়েছে ভারত। সেই অভিযানের সাফল্য সারা দেশে উদযাপিত হয়েছে। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির বার্ষিক ব্যবসায়িক শীর্ষ সম্মেলনে বায়ু সেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং অপারেশন সিঁদুরকে দেশের বিজয় হিসাবে অভিহিত করেন এবং বলেন সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিটি ভারতীয় এই বিজয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।
অনুষ্ঠান চলাকালীন বায়ুসেনা প্রধান বলেন এই অভিযান সম্পূর্ণ পরিকল্পনা ও নির্ভুলতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছিল। এই অভিযানে তিন বাহিনীর মধ্যেই সমন্বয় খুব ভাল ছিল। বায়ুসেনা প্রধানের কথায়, “যখন দেশবাসী আমাদের পাশে থাকে তখন প্রতিটি কাজ আপনা আপনিই প্রতিটি কাজ হয়ে যায়। যুদ্ধের ধরন বদলাচ্ছে। আমরা নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করছি। অপারেশন সিঁদুর আমাদের স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে যে আমরা কোনদিকে চলেছি। ভবিষ্যতেও আমরা নিশ্চয় আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হব।”
দেশীয় অস্ত্র প্রসঙ্গে এপি সিং বলেন, “শিল্প এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও আস্থার কারণেই এই জয় সম্ভব হয়েছে। আমরা শুধু ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ বলিনি, বরং তা করে দেখিয়েছি।” তারপরেই পুরো ভাইজান স্টাইলে বায়ু সেনা প্রধানের বক্তব্য, “একবার জো হামনে কমিট কিয়া হ্যায়, ফির ম্যায় আপনে আপ কি ভি নেহি শুনতা, আমাদের এটা ভেবেই কাজ করতে হবে।’
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও। তিনি সরাসরি বলেন, “অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে পাকিস্তানের সন্ত্রাসী হামলার জবাব দেওয়ার সময় ভারত আরও বেশি ক্ষতি করতে পারত, কিন্তু আমরা আমাদের সংযম বজায় রেখেছি। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বসবাসকারী মানুষ ভারতের নিজের লোক, তাঁরা একদিন ওবশ্যই মূল ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবেন। সেই দিন খুব বেশি দূরে নেই যেদিন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষ আত্মসম্মান নিয়ে স্বইচ্ছায় ভারতে যোগ দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের ব্যবসা পরিচালনা করার চরম মূল্য বুঝতে পেরেছে। এখন থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে যখনই আলোচনা হবে তা কেবল সন্ত্রাসবাদ এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই হবে। পাকিস্তানের সঙ্গে আর অন্য কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা নয়।”