নিজস্ব প্রতিনিধি : বিগত কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত বানিজ্য নগরী মুম্বই। জল জমে গিয়ে একাধিক এলাকায় চরম সমস্যায় পড়েছেন মুম্বইবাসী। রবিবার রাতে এবং সোমবার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে মুম্বাইয়ের বিস্তির্ণ এলাকায় যারফলে বহু জায়গা জলের তলায় চলে গিয়েছে। বাড়ির বাইরে বের হতেও আতঙ্ক হচ্ছে। প্রবল বৃষ্টির কারণে যানবাহন, বিমান ও রেল পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে।
মৌসম ভবন সূত্রে খবর, সোমবার মুম্বাইয়ের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রপাত, তীব্র বৃষ্টিপাত এবং ঝড়ো পূর্বাভাস রয়েছে। রবিবার মহারাষ্ট্রে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করেছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু এবং অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর কিছু অংশে ওই মৌসুমী বায়ু অগ্রসর হবে। যারফলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। মুম্বই এবং পুনেতেও একটি হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত মুম্বিয়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
মুম্বইয়ের বিস্তির্ণ জায়গায় বজ্রপাত, ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রায়গড়, রত্নগিরি এবং সিন্ধুদুর্গের আশেপাশের কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রবল বৃষ্টির মুখে পড়েছেন মুম্বইবাসী।
মুম্বইয়ের পাশাপাশি রাজধানী দিল্লিতেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। রবিবার সকালে কয়েক ঘণ্টায় ৮১.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সোমবারও বৃষ্টি হচ্ছে রাজধানীতে। এই বৃষ্টির কারণে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪-৬ ডিগ্রি কমেছে। ৩৪-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আইএমডি-র তথ্যানুসারে, ১৯০১ সালের পর মে মাসে এত বৃষ্টির রেকর্ড চলতি বছরেই। মে মাসে মোট বৃষ্টিপাত ১৮৬.৪ মিলিমিটার ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে জানা যায়। ২০০৮ সালের মে মাসের ১৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়ে রেকর্ড গড়েছিল। সেই রেকর্ড এবার ভেঙে গিয়েছে। শনিবার কেরালায় বর্ষা পৌঁছেছে। কেরলের ৫ জায়গায় সতর্কতা জারি হয়েছে।