নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: দিল্লি থেকে ভিয়েনাগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান টেক অফের কিছুক্ষণ পরেই প্রায় ৯০০ ফুট নীচে নেমে গিয়ে ভয়ঙ্কর বিপত্তির সৃষ্টি হয় । কিছুদিন গেই আহমেদাবাদে AI-171 বোয়িং বিধ্বস্ত হয়েছে। সেই ক্ষত এখনও দগদগে। মঙ্গলবার বিমান সংস্থার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত উভয় পাইলটকেই বিমান চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
একটি সর্বভারতীয় সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, ১৪ জুন ভোর ২.৫৬ মিনিটে ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক (আইজিআই) বিমানবন্দর থেকে একটি বোয়িং ৭৭৭ ফ্লাইট এআই-১৮৭ টেক অফ করে। নয় ঘন্টা আট মিনিটের উড়ান শেষে নিরাপদে ভিয়েনায় অবতরণ করে। তবে টেক অফের পরপরই বিমানটি হঠাৎ উচ্চতাজনিত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এর ফলে স্টল এবং গ্রাউন্ডের কাছাকাছি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে যে প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও পাইলটরা বিমানটিকে স্থিতিশীল করার জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং যাত্রা শেষ করে নিরাপদে অবতরণ করেছিলেন। এয়ার ইন্ডিয়ার একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘পাইলটদের রিপোর্ট পাওয়ার পর, বেসামরিক বিমান চলাচলের নিয়ম অনুসারে বিষয়টি জানানো হয়েছিল সিভিল এভিয়েশন ডিরেক্টরেট জেনারেল (ডিজিসিএ) কে। এর পরে, বিমানের রেকর্ডার থেকে তথ্য সংগ্রহের পর আরও তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের ফলাফল শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত পাইলটদের বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে।”
ডিজিসিএ’ও এই বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে এবং স্পষ্টীকরণের জন্য এয়ার ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা প্রধানকে তলব করেছে। ১২ জুন বিকেলে আহমেদাবাদে বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ বিধ্বস্ত হয়। তার ৩৮ ঘন্টা পরে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটটি দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হতেও হয়নি।
সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়ানের কয়েক সেকেন্ড পরেই এবোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ বিধ্বস্ত হয়েছিল। এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ২৭০ জন।
ডিজিসিএ কর্তৃক পরিচালিত সাম্প্রতিক এক নিরাপত্তা নিরীক্ষায় এয়ার ইন্ডিয়ার বহরের রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে বারবার অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই মাসের শুরুতে এয়ার ইন্ডিয়ার বেশ কয়েকটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটির খবর পাওয়ার পর বিবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া ঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য তদন্ত চলছে। কারিগরি সমস্যা নাকি পাইলটের ত্রুটি দায়ী ছিল ১২ জুনের দুর্ঘটনার জন্য, তা এখনও জানা যায়নি।