নিজস্ব প্রতিনিধি : আর কিছু সময়, এরপরেই মর্ত্যলোকে অন্ধকার ঘোচাতে নেমে আসবে আদ্যাশক্তি। বিনাশ করবে সমস্ত অশুভ শক্তি। দিকে দিকে ভক্তরা মেতে উঠবে মা কালীর আরাধনায়। সর্বপ্রাণীকে ‘কলন’ অর্থাৎ গ্রাস করেন যিনি তিনি হলেন ‘মহাকাল’। আর সেই মহাকালকেই গ্রাস করেন যে আদ্যাশক্তি তা হল ‘কালিকা’। কালকে কলন করেই তিনি কালী। তিনি অশুভ শক্তিনাশ করেছেন। গলায় তার প্রতীক হিসেবে রয়েছে দানবমুণ্ডমালা। দেবী কালি হলেন দশমহাবিদ্যার প্রথম দেবী। কালীপুজোর কথা উঠলেই মনে পড়ে পুরুলিয়ায় চরণপাহাড়ি কালী মন্দিরের কথা। প্রায় ৮০ বছর ধরে পুজিতা হয়ে আসছেন মা কালী। এই কালীপুজোর দীর্ঘ এক ইতিহাস রয়েছে। একজন মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষের হাতে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল দেবীর। তাও নাকি দেবীর ইচ্ছায়। স্বয়ং দেবী চেয়েছিলেন এক মুসলিম ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতিষ্ঠিত হতে।
সেই মুসলিম ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি আর কেউ নয়, সে হল তৎকালীন ওসি জিটি লতিফ। ভারত তখনও স্বাধীন হয়নি। পুরুলিয়ার পুঞ্চা তখন একটা গঞ্জ বলা যেতে পারে। তখন ছিল ব্রিটিশ শাসনকাল। এখানেই ইংরেজ পুলিশ একটি পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি করেন। সেখানকার ওসি ছিলেন জিটি লতিফ। ফাঁড়ি থেকে কিছুটা এগিয়ে এলেই পাহাড়ি এলাকা। সেই এলাকায় খুব জনমানুষ নেই বললে চলে। তখন বেশ মজাই দিন কাটত।
কথিত আছে, জঙ্গলে ঘেরা সেই এলাকায় ওই ওসি এক পাথরে দেবীর পায়ের ছাপ দেখেন। এরপরই গভীর রাতে তিনি স্বপ্নাদেশ পান তিনি। এরপর মায়ের নির্দেশে মন্দিরও প্রতিষ্ঠা করেন। যেহেতু মায়ের পদচিহ্ন পড়েছিল এই পাহাড়ি জঙ্গলে, তাই পাহাড়ের নাম হয় চরণপাহাড়ি। আর সেখানকার কালী হয়ে ওঠে চরণপাহাড়ি কালী। চরণপাহাড়ি কালীপুজো ৮০ বছর হতে চলল। তবে শোনা যায়, এক সময় পাহাড়ি দুর্গমতার কারণে এখানে খুব কম মানুষই যাতায়াত করতেন। কখনও কখনও তান্ত্রিকরা আসতেন পুজো করতে। তৎকালীন ওসি জিটি লতিফ এসেছিলেন এলাকা ঘুরে দেখতে। এরপরই স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজোর সূচনা করেন তিনি।
এই নিয়ে মন্দিরের এক পুজারী জানান, ‘মুসলমান এক ওসি ছিলেন এখানে। তিনিই এখানকার হিন্দু ধর্মাবলম্বী-সহ সমস্ত ধর্ম বর্ণের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই পুজো চালু করেন। আজও সেই সম্প্রীতি বজায় রেখেই পুজো হয়ে চলেছে। বহু বছর হয়ে গেল এই পুজোর। এখানে সর্বধর্মের মানুষ আছেন। সকলে সহযোগিতা করেন। যিনি ওসি সাহেব ছিলেন, এখানে বসতেন। মা ওনাকে স্বপ্ন দেখান। প্রথমে পাথরই পুজো হতো। পরে মন্দির হল। নিয়ম নিষ্ঠা মেনে এভাবেই পুজো হয়ে আসছে।’