নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতের বীর সন্তান সুভাষ চন্দ্র বোসের বীরত্বের কথা দেশপ্রেমীদের হৃদয়ে জ্বলজ্বল করছে। দেশকে স্বাধীন করতে রক্তপিপাশু ইংরেজদের অকথ্য অত্যাচার সহ্য করেছেন তিনি। ব্রিটিশরা ভয় পেয়ে উঠেপড়ে লাগেন বীরযোদ্ধা সুভাষের পেছনে। যে করেই হোক দমাতে হবে বাঙালি সুভাষকে। নইলে যে আর রক্ষা নেই.. সামনেই নেতাজির জন্মদিন। আগামী ২৩ জানুয়ারি দেশ জুড়ে পালিত হবে স্বাধীনতা সংগ্রামী এই বিপ্লবীর জন্ম জয়ন্তী।তার আগেই জেনে নিন এই যোদ্ধার ত্যাগের কাহিনী।
একসময় পুরুলিয়ায় ‘নীলকণ্ঠ নিবাসে’র আশ্রয়ে রাত কাটিয়েছেন এই বীর যোদ্ধা। দেশনায়কের আবেগ, স্মৃতি আজও জ্বলজ্বল করছে পুরুলিয়ার নামোপাড়ায় ‘নীলকণ্ঠ নিবাসে’। তখন ব্রিটিশ শাসন। সেই সময় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে আশ্রয় দেওয়া মানে দেশদ্রোহীর তকমা পাওয়া! তবুও ইংরেজদের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে দেশপ্রেমীরা আগলে রেখেছিল ভারত মায়ের এই সন্তানদের।
সালটা ছিল ১৯৩৯ সালের ৯ ডিসেম্বর, নবগঠিত ফরওয়ার্ড ব্লক দলের সাংগঠনিক শক্তির বিকাশ ও প্রসারের কাজে শহর পুরুলিয়ার নামোপাড়ায় এই নীলকন্ঠ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে রাত কাটিয়েছিলেন নেতাজি। তীব্র জ্বরে কাবু ছিলেন তিনি। পরের দিন ঠিকমত দাঁড়ানোর অবস্থায় ছিলেন না। সকালে সামান্য কিছু খাবার খেয়ে তিনি কাজে বেরিয়ে যান। এদিকে গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে, কিন্তু এই আগুন জ্বলছে নেতাজির মনের মধ্যে। আসলে শরীর নয়, মন পুড়ছে নেতাজির, যে করেই হোক দেশকে বাঁচাতে হবে…।
আরও পড়ুন : জীবন বদলে দেবে নেতাজির এই অমূল্য কথাগুলি..
ওই জ্বর নিয়েই জেলা জুড়ে মোট ৩০ টি সভা করেছিলেন তিনি। তৎকালীন নানা পত্র-পত্রিকা থেকে জানা যায় তাঁর গা পুড়ে গেলেও শুধুমাত্র চা খেয়ে সেই সভাগুলি সম্পন্ন করেন তিনি। সেদিন কোনও গাড়ি পাওয়া যায়নি। যে গাড়ি ভাড়া করা হয়েছিল ব্রিটিশ পুলিশ তা নিজেদের দখলে রাখে। পরে পঞ্চকোট রাজ পরিবারের সদস্য প্রকৃতিশ্বরলাল সিং দেও আগের দিনে কেনা নতুন গাড়িতে করে নেতাজিকে মানভূম ঘুরিয়েছিলেন। এরপর ইংরেজদের রোষে পড়েছিলেন প্রকৃতিশ্বরলাল সিং।